কেউ নেয়নি প্রথম দিন

আইপিএলের মেগা নিলামের আগে সাকিব আল হাসান মাঠের পারফরমেন্সে এমন একটা আবহ তৈরি করেছিলেন যে প্রথম দিনে দল পাবেন না এটা কেউ ভাবতে পারেনি। দেশে চলমান বিপিএলে টানা ৫ খেলায় ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। ফরচুন বরিশালের হয়ে ৯ ম্যাচে ৩৪.৫০ গড়ে ২৭৬ রান করেছেন তিনি। স্টাইকরেট ১৪৬.৮০। ১১.৭৩ গড়ে নিয়েছেন উইকেট নেন ১৫ উইকেট। ফরচুন বরিশালকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে তুলেছেন কোয়ালিফায়ারে। এমন ফর্মে থাকা সাকিবের ব্যাপারে নিলামে আগ্রহ দেখাবে দলগুলো- ধারণা করা হচ্ছিল। বাস্তবে ২ কোটি রুপি দামি ভিত্তিমূল্যের অলরাউন্ডার অবিক্রীত রয়ে গেছেন প্রথম দিনে। আজ দল পাবেন কি না তা নিয়েও সংশয় আছে।

আইপিএল নিলামের আগে এত ভালো খেলেও কেন এমন হলো? তাহলে কি বিপিএলের পারফরমেন্সকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না ভারতীয় ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর টিম ম্যানেজমেন্ট? নাকি গত আইপিএলের ফর্ম সাকিবের বিপক্ষে গেছে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে গত আসরে ৮ ম্যাচে মাত্র ৯.৪০ গড় ও ৯৭.৯১ স্ট্রাইক রেটে ৪৭ রান করেছিলেন। উইকেট নিয়েছিলেন মাত্র ৪টি। তবে এটাই একমাত্র কারণ নয়। যে ফ্র্যাঞ্চাইজিই নেবে, সাকিবকে পুরো আসরে পাবে না ধরে নিয়েই হয়তো আগ্রহ দেখায়নি সাকিবের ব্যাপারে। ২৭ মার্চই শুরু হতে পারে এবারের আইপিএল। সেই সময় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকবে বাংলাদেশ। সূচি অনুযায়ী সাকিবদের তিন ম্যাচের ওয়ানডের সিরিজ শুরু হবে ১৮ মার্চ। শেষ হবে ২৩ মার্চ। এরপর দুই টেস্টের সিরিজ। প্রথম টেস্ট শুরু ৩১ মার্চ। দ্বিতীয় টেস্ট শেষ হবে ১২ এপ্রিল। এরপর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। যেটি মে মাস পর্যন্ত চলবে। আইপিএলের শেষ পর্ব তখনই হওয়ার কথা। বাংলাদেশের হয়ে দুটি সিরিজে সাকিব খেলবেন ধরে নিলে আইপিএলে তাকে খুব বেশি ম্যাচে খেলানো সম্ভব নয়। সেটা হলে দুই কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যের সাকিবকে কিনে খুব বেশি ফায়দা তুলতে পারবে না ফ্রাঞ্চাইজিগুলো।

সাকিবকে না কেনার পেছনে অন্য একটা ক্রিকেটীয় কারণের কথা বলছেন কেউ কেউ। আইপিএলে তিনি খেলেন মূলত বোলিং অল রাউন্ডার হিসেবে। সাত নম্বরে নেমে কিছু রান করেন। কিন্তু সেই সময় বিগ হিটের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে রান তোলার ব্যাপারে সাকিব খুব অভ্যস্ত নন। গত আইপিএলে তিনি বারবার এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। তাছাড়া বোলিংয়েও হতাশ করেছেন। সøগ ওভারে অতিরিক্ত রান গুনেছেন। এবার তাই হয়ত ঝুঁকি নেয়নি কোনো দল। আইপিএলের গত নিলামে সাকিবকে ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনেছিল পুরনো দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এবার ১০ দলের নিলামের প্রথম দিনে তাকে কেউ না নিলেও আজ বিক্রি হওয়ার সুযোগ আছে। ২০০৯ সালের আইপিএল নিলামে কোনো দল পাননি সাকিব। ২০১০ আইপিএলেও একই অবস্থা হয়েছিল। ২০১১ সালের আইপিএলে তাকে প্রথমবার কেনে কলকাতা। ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার দাম উঠেছিল। এরপর থেকে টানা ৭ আইপিএল খেলেছেন। ৬ বার কলকাতার হয়ে। এরমধ্যে ২০১৪ সালে কেকেআরের সাফল্যের সঙ্গী ছিলেন তিনি।