কাজের অগ্রগতি ৮০ শতাংশ

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণকাজের গতি সপ্তাহখানেকের জন্য থমকে গিয়েছিল। এখন আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। সে কারণে তারা আশা করছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওমিক্রনের বিস্তার বাড়ায় গত মাসে টানেলের কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছিল। তারপরও আমরা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি জানান, করোনার তিনটি ঢেউয়ে প্রকল্পের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে।

তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই টানেলের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দক্ষিণ তীরে আনোয়ারা পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই টানেল তৈরি করা হচ্ছে। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ‘মাল্টি লেন রোড টানেল আন্ডার রিভার কর্ণফুলী প্রজেক্ট’ শিরোনামে এই প্রকল্পে যৌথভাবে অর্থ বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশ সরকার ও চীন।

প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পে ২ হাজার ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে প্রথম টানেল টিউবের খনন ও রিং প্রতিস্থাপনের কাজ ২০২০ সালের আগস্টে শেষ হয়।

২ হাজার ৪৫৯ মিটার দৈর্ঘ্যরে দ্বিতীয় টানেল টিউবের খনন ও রিং বসানোর কাজ শেষ হয় ২০২১ সালের অক্টোবরে।

চীনের জিয়াংজু প্রদেশের জেংজিয়াং শহরে টানেল সেগমেন্ট কাস্টিং প্ল্যান্টে নির্মিত ১৯ হাজার ৬১৬টি সেগমেন্ট ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেছে এবং প্রথম টিউবে ৯ হাজার ৭৮৪টি ও দ্বিতীয় টিউবে ৯ হাজার ৮৩২টি সেগমেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে দুটি টিউবের ভেতরের অবকাঠামোর কাজ চলছে।

প্রথম টিউবে লেন সø্যাব ঢালাইয়ের কাজ প্রায় পুরোপুরি শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় টিউবে লেন সø্যাব ঢালাইয়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। টানেলের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের কাজও চলছে।

জানা গেছে, চীনের নাগরিকসহ প্রকল্পের কয়েকজন কর্মী ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে কাজে ধীরগতির সেটাও একটা কারণ।

প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ, সাধারণ ছুটি ও বিধিনিষেধের কারণে প্রায় দেড় বছর টানেলের কাজে গতি ছিল না। যে কারণে ওই সময়ে প্রকল্পের কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি। চলতি বছরের শুরুতে ওমিক্রনের কারণে আরও এক দফা কাজ ব্যাহত হয়েছে।

এখন তা কিছুটা কাটিয়ে ওঠার পর নতুন করে কাজে গতি এসেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আধুনিক সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলীর তলদেশ হয়ে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।