দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৫ নম্বর আব্দুলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও আন্ধারমুহা গুচ্ছগ্রামের সভাপতি আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে মুজিব বর্ষের পাঁচ বাড়ি নিজের ও সন্তানদের নামে বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করার অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তার বিরুদ্ধে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি পাইয়ে দেওয়া ও রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও সরকারি আশ্রয় প্রকল্পের সাত বাড়ি নিজ দখলে রাখার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার দুপুরে চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আন্ধারমুহা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আকবর আলী, আইয়ুব আলী ও মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে শতাধিক ভুক্তভোগী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দিকা বরাবর দায়ের জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে ২০০০ সাল থেকে আন্ধারমুহা গুচ্ছগ্রামের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলাম। কিন্তু আন্ধারমুহা গুচ্ছগ্রামের সভাপতির ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী বিভিন্ন সময়ে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে গুচ্ছগ্রামের অসহায় ৫০’র অধিক পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাত বাড়ি দখল করে রেখেছেন। তার কথামতো টাকা না দিলে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি গুচ্ছগ্রামের বেশির ভাগ গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। গুচ্ছগ্রামের সরকারি দু’টি ঘর দখল করে মুরগির ফার্ম তৈরি করেছেন। ফলে আশপাশের থাকা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দেওয়া সরকারের উপহারের পাঁচটি বাড়ি নিজের ও তার সন্তানদের নামে বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করছেন। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য সরকার একটি কবরস্থান করে দেয়। কিন্তু আইয়ুব আলী ওই কবরস্থান দখলের পাঁয়তারা করছেন। আমরা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এ ছাড়া বিধবা ভাতা, ভিজিএফ এর চাল দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় কৃষক আনিছুর রহমানকে ঘর রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য ৬ হাজার টাকা, ভ্যান চালক জবেদ আলীকে ঘর দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা, প্রতিবন্ধী চকো বেগমকে নতুন করে ঘর দেওয়ার কথা বলে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা, ভ্যান চালক রবিউলকে ঘর দেওয়ার কথা বলে ৩ হাজার টাকা, রবিউলের বোন সালমার কাছে ৭ হাজার টাকা, এনামুলের কাছে ২ হাজার টাকা, মনসুরা বেগমের কাছে সাড়ে ৪ হাজার টাকাসহ গুচ্ছগ্রামের প্রায় ৫০ পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আইয়ুব আলী। তার এসব অপকর্মের বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকির শিকার হতে হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গুচ্ছগ্রামের সভাপতি আইয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকা জানান, আমি ছুটিতে আছি। তবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও গুচ্ছগ্রামের সভাপতি আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আমার অফিসে জমা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে সে যদি দোষী প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।