সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ খেলতে চান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে। জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে এমন ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন তিনি।
মেঘ বর্তমানে ঢাকার গুলশানের একটি স্কুলে স্ট্যান্ডার্ড নাইনে পড়ছেন। ক্রিকেট নিয়ে তার স্বপ্ন ও প্রস্তুতি বেশ আগে থেকেই। ইতিমধ্যে খেলেছেন বিসিবির ইয়ুথ টাইগার্স অনুর্ধ্ব-১৬ জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে।
সিরাজগঞ্জে হওয়া এই টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল তার। প্রথমটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচটি গত বুধবার খেলেছেন তিনি। শেষ ম্যাচটি ছিল শুক্রবার। এ দিন তার বাবা-মায়ের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী থাকায় না খেলেই ঢাকায় ফিরেছেন।
ক্রিকেটকে ভালোবেসে প্রথমে ইন্দিরা ক্রিকেট একাডেমিতে এবং বর্তমানে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব একাডেমিতে দেশি-বিদেশি অনেক নামকরা কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে মেঘ বলেন, ‘এখন আমার মূল লক্ষ্য জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলা। যেভাবে চলছে, আমি আশা করি অনুর্ধ্ব-১৯ দলে খেলতে পারব। অনুর্ধ্ব-১৪ দলে প্রায় চান্স পেয়েই গিয়েছিলাম। চার ধাপে সেখানে পরীক্ষা দিতে হয়। চতুর্থ ধাপের শেষ মুহূর্তে আমি বাদ পড়েছি। আসলে অনেক বেশি নার্ভাস থাকার কারণে ভালো করতে পারিনি। প্রথম ম্যাচটা খারাপ করলেও পরের দুটি ম্যাচ ভালো করেছি।’
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হন তার বাবা ও মা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। তখন তার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর। তার বাবা-মায়ের হত্যাকাণ্ডের দশ বছর পার হয়েছে ইতিমধ্যে।
বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর নানি নুরুন্নাহার মির্জার কাছেই বড় হচ্ছিলেন তিনি। এর মধ্যে গত ৫ জানুয়ারি নানিও পরলোকগমন করেছেন। নানির অনুপ্রেরণাতেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘নানি ছিলেন ক্রিকেটের বড় ভক্ত। আইপিএলের নিলামের সময় নানি স্বপ্ন দেখতেন আমিও একদিন ওই নিলামে খেলব। মূলত নানির উৎসাহেই ক্রিকেটকে ভালোবেসেছি।’
তার আত্মবিশ্বাস, যদি টানা এক বছর অনুশীলন করতে পারেন তাহলে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে ও পরে জাতীয় দলে খেলতে পারবেন তিনি।
ক্রিকেটের মাঠে অলরাউন্ডার হিসেবেই নিজেকে তৈরি করছেন মেঘ। ক্রিকেটারদের মধ্যে তার প্রিয় তারকা সাকিব আল হাসান, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমি সাকিবের মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হতে চাই। আমি চাই সাকিব যেভাবে ক্রিকেট খেলে সুনাম অর্জন করেছেন এবং দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন সেরকম খেলতে। আমি সব সময় সাকিবের খেলা অনুসরণ করি।’
নানির অবর্তমানে এখন মামা-মামির তত্ত্বাবধানে আছেন তিনি। তার মামা নওশের রোমান বলেন, ‘কোথাও আমরা তাকে একা যেতে দিই না। সর্বশেষ বুধবার সিরাজগঞ্জে ইয়ুথ টাইগার্স টুর্নামেন্ট-১৬-এ ম্যাচ খেলেছে, আমি ওর সঙ্গেই ছিলাম। ও যখন বাসার পাশেই ইন্দিরা ক্রিকেট একাডেমিতেও প্র্যাকটিস করতে যায়, তখনো আমরা কেউ না কেউ ওর সঙ্গে থাকি। ওর ইচ্ছাটাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করি। যাতে বাবা-মায়ের অভাবটা ওর মধ্যে কাজ না করে।’
ক্রিকেটের বাইরে মেঘের সময় কীভাবে কাটে জানতে চাইলে নওশের রোমান বলেন, ‘পড়াশোনাতে মনোযোগের কোনো ঘাটতি নেই। এর বাইরে যে সময়টা সে পায় তার পুরোটাই ক্রিকেট নিয়ে থাকে। ফিটনেস নিয়ে থাকে। করোনার মধ্যে যখন কেউ ঘর থেকে বের হতে পারে না, তখনো বাড়িতেই নিয়মিত ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করেছে সে।’
বাবা-মায়ের কথা মেঘের মনে পড়ে কিনা- জানতে চাইলে নওশের রোমান বলেন, ‘প্রথমদিকে কিছু জানতে চাইলেও এখন আর ওভাবে কিছু জানতে চায় না। তবে কিছু কিছু শব্দ ওকে ভাবাচ্ছে। যেমন ‘ধামাচাপা’ শব্দটি। সেদিন আমার কাছে সে জানতে চাইল মামা ধামাচাপাটা কী? এ ধরনের কিছু শব্দ ওর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সব সময় আমরা ওকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করি।’