সীমান্তে বিপুলসংখ্যক রুশ সৈন্য মোতায়েনের কারণে পশ্চিমা বিশ্ব আশঙ্কা করছে মস্কো যেকোনো সময় ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে। তবে মস্কো হামলার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করছ বলছে, ন্যাটোর মিত্রদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজের দেশকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা।
ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু হলে কোন দিক থেকে রাশিয়া সামরিক অভিযান চালাবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, ইউক্রেন সীমান্তের তিন দিকে সৈন্য মোতায়েন করে চাপ সৃষ্টি করেছে রাশিয়া। দক্ষিণের ক্রিমিয়া সীমান্ত, দুই দেশের সীমান্তে রাশিয়া অংশ ও উত্তরে বেলারুশ সীমান্ত থেকে আগ্রাসন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া যে তিন দিক থেকে অভিযান চালাতে পারে, সেসব এলাকায় নজর রাখছে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো। এসব এলাকায় রাশিয়ার গতিবিধি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, ইউক্রেনের পুলিশ, ন্যাশনাল গার্ড ফোর্স, বর্ডার গার্ড সার্ভিস এবং জরুরি উদ্ধার তৎপরতা ও সেবাদানের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শনিবার একটি অনুশীলনে অংশ নেয়।
বিবিসি জানায়, রাশিয়ার অধিভুক্ত ক্রিমিয়ার সীমান্তে দক্ষিণ খেরসন অঞ্চলে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে এই অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুশীলনে অংশ নিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়া যে কোনো সময় হামলা করতে পারে। কিন্তু তাদের হামলা ঠেকানো এবং আক্রমণের যে হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে তা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। হামলা সংক্রান্ত নানা ধরনের তথ্য জোগাড় করা তাদের জন্য খুব জরুরি।’
একই ধরনের অনুশীলন ইউক্রেন সীমান্তের অন্যান্য অঞ্চলেও হবে বলে জানানো হয়।
রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরে ক্রিমিয়ার কাছাকাছি ৩০টিরও বেশি জাহাজ প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। ব্যাপক পরিসরে নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণের অংশ এটি।
এছাড়া, বেসামরিক জনগণের জন্য ‘আতঙ্কিত হবেন না! প্রস্তুত থাকুন’ শীর্ষক একটি উন্মুক্ত সামরিক প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনে রুশ হামলার আশঙ্কায় এক ডজনেরও বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের ইউক্রেন ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি আছে।
শনিবার কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, লাটভিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড নাগরিকদের ইউক্রেন ছাড়তে বলেছে।
কানাডীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানায়, কানাডাও তাদের দূতাবাসের কর্মীদের পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী লাভিভ শহরে সরিয়ে নিচ্ছে। ইউক্রেনে নিয়োজিত ব্রিটিশ দূত মেলিন্ডা সিমন্স টুইটার পোস্টে বলেছেন, তিনি ও দূতাবাসের একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ দল’ কিয়েভে অবস্থান করবে।
রাশিয়া নিজেও ইউক্রেনের দূতাবাসে কিছু পরিবর্তন আনছে। কিয়েভ ও তৃতীয় পক্ষের সম্ভাব্য উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে দেশটি বলেছে, ইউক্রেনে নিয়োজিত কূটনীতিকদের ঢেলে সাজানো হবে।
দেশের বাইরে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন, এমন প্রায় ১৫০ মার্কিন সেনাকেও দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। নেদারল্যান্ডসের এয়ারলাইন কোম্পানি কেএলএমের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে ইউক্রেনে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেবে প্রতিষ্ঠানটি। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
ইউক্রেনে সম্ভাব্য রুশ সামরিক আগ্রাসন নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ সময় পুতিনকে সতর্ক করে বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেনে হামলা করলে চড়া মূল্য দিতে হবে রাশিয়াকে। খবর রয়টার্স ও আল জাজিরার।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার ভিডিও কলে কথা বলেন বাইডেন ও পুতিন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টা কথা হয়। এ সময় বাইডেন পুতিনের উদ্দেশে বলেন, ‘সামরিক আগ্রাসনের ফলে ইউক্রেনে বড় ধরনের মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে। এর ফলে রাশিয়ার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আর হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্ররা দ্রুত এ কড়া জবাব দেবে। রাশিয়াকে এজন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।’
অন্যদিকে, ক্রেমলিন এই ভিডিও কলটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ও তার মিত্রদের ‘হিস্টিরিয়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপের আগে পুতিন শনিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, চলমান উত্তেজনা দ্রুত নিরসন না হলে কূটনৈতিক পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হবে না বলে পুতিনকে জানিয়েছেন মাখোঁ।