নির্বাচন কমিশনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অন্তত ১ জনকে প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনের নেতারা এই দাবি জানান। তারা বলেন, এই প্রতিনিধি হতে হবে যোগ্য ও সর্বজনমান্য।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের বিদ্যমান ভোটারদের মধ্যে অন্তত ১২ শতাংশ ভোটার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত। কিন্তু পূর্বে গঠিত নির্বাচন কমিশনগুলোতে এ সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় নির্বাচনের আগে ও পরের পরিস্থিতি তাদের বিবেচনায় আসেনি।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণে তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। যে কারণে অনভিপ্রেত পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে গোটা দেশ ও জাতিকে, যেটা কারও কাম্য নয়।
তিনি জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আগের মতোই ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের খুন, বাড়িঘর-ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান-উপাসনালয়ে হামলা, জায়গা-জমি জবরদখলের মতো ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। খাগড়াছড়ি সদরের ধর্মসুখ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত বিশুদ্ধা মহাথেরো ও নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের মিশুক চালক বলরাম হত্যার শিকার হয়েছেন।
এ ছাড়া, চট্টগ্রামের জুম্ম চাদিগাং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জ্ঞানজ্যোতি ভিক্ষুকে হত্যার অপপ্রয়াস চালানো ও জমি জবরদখলের বেশ কিছু অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সম্প্রতি কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাবার শ্রাদ্ধ শেষে ফেরার পথে পিকআপের চাপায় ৫ ভাই নিহত হওয়ার ঘটনাকেও পরিকল্পিত ও চক্রান্ত বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন রানা দাশগুপ্ত।
বিগত শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালীন ও পরবর্তীতে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে রাজনৈতিক দলগুলো, আলেম ওলামা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠন ও গণমাধ্যমের সোচ্চার ভূমিকাকে অনন্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন রানা দাশগুপ্ত।
তিনি জানান, গত জানুয়ারিতে সংগঠনের দশম ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের পর এটা তাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন।
ওই সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনের প্রস্তাবের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে যে জাতীয় জনমত গড়ে উঠেছে, তার আলোকে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের রক্ষায় জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে জাতীয় নীতি প্রণয়ন ও ঘোষণার জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কাউন্সিল।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি নিম চন্দ্র ভৌমিক বক্তব্য দেন। এসময় সংগঠনের নেতা কাজল দেবনাথ, সুব্রত চৌধুরী ও বাসুদেব ধর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।