মেহেদি হাসান রানার দারুণ বোলিংয়ে ১৪৩ রানের পুঁজি নিয়েও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে ফরচুন বরিশাল। সুবাদে বিপিএলের ফাইনালেও উঠে গেছে সাকিব আল হাসানের দল।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সোমবার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি ১০ রানে জিতেছে বরিশাল। লিগ পর্ব যারা শেষ করেছিল শীর্ষে থেকে।
দ্বিতীয় স্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করা কুমিল্লা এদিন হারলেও ফাইনালে ওঠার আরেকটা সুযোগ পাবে। বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে লড়বে তারা। একইদিন চট্টগ্রাম এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনা টাইগার্সকে হারিয়েছে ৭ রানে।
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় কুমিল্লার দুই ওপেনার লিটন দাস ও মাহমুদুল হাসান জয় সাবধানে এগোচ্ছিলেন। ৭ ওভারে দলীয় ৫০ রান পূরণ করেন তারা।
১১তম ওভারে ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদি রানা। ফেরান ৩০ বলে ২০ রান করা জয়কে। পরে স্লগ ওভারে দারুণ বোলিং করে ম্যাচের ভাগ্যও নির্ধারণ করে দিন রানা।
দারুণ বোলিং করেছেন বরিশালের শফিকুল ইসলাম, সাকিব আল হাসান, ডোয়াইন ব্রাভো ও মুজিব উর রহমান। তাই কুমিল্লারর ব্যাটাররা পারেনি দলকে জয় এনে দিতে।
কুমিল্লার পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করা লিটন দাসকে বোল্ড করে ফেরান শফিকুল। তার আরেক শিকার ইমরুল কায়েস (৫)। ১১তম ওভারে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দুটি নেন ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার শফিকুল।
শেষ চার ওভারে ৩৫ রানের সমীকরণ ছিল কুমিল্লার সামনে। ১৭তম ওভারে মেহেদি রানা দারুণ বল করেন। খরচ করেন মাত্র ৩ রান। ফলে শেষ ১৮ বলে ৩২ রানের সমীকরণ দাঁড়ায় কুমিল্লার সামনে।
১৮তম ওভারে ব্রাভো ১০ রান ব্যয় করলে কুমিল্লার সমীকরণ দাঁড়ায় ১২ বলে ২২ রানের।
১৯তম ওভারে ফের মেহেদি রানার ঝলক। প্রথম দুই বলে সিঙ্গেল দেন। তৃতীয় বলে ফ্যাফ ডু প্লেসিকে মিড উইকেটে ক্যাচে পরিণত করেন। ডু প্লেসি ১৫ বলে ২১ রান করেন। সব মিলে মেহেদি রানা মাত্র ৪ রান খরচ করেন ওই ওভারে। শেষ ওভারে তাই ১৮ রানের সমীকরণ দাঁড়ায় কুমিল্লার।
মুজিব উর রহমানের করা শেষ ওভারে ওই সমীকরণ মেলাতে পারেনি কুমিল্লা। মুজিব ৭ রান খরচায় জোড়া উইকেট তুলে নেন। মাহিদুল অঙ্কনকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলার সঙ্গে সুনিল নারিনকে সোহানের ক্যাচে পরিণত করেন। একই সঙ্গে বিজয়ের স্বাদ এনে দেন দলকে। নারিন ১৬ বলে ১৭ রান করেন।
মেহেদি রানা ১৫ রান খরচায় ২টি, শফিকুল ১৬ রান খরচায় ২টি ও মুজিব ৩৩ রান খরচায় ২ উইকেট নেন। ব্রাভো নিয়েছেন ১ উইকেট। সাকিব ২৭ রান খরচায় উইকেটশূন্য ছিলেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বরিশাল মুনিম শাহরিয়ার ও ক্রিস গেইলের ব্যাটে দারুণ শুরু পায়। উদ্বোধনী জুটিতে ৬.২ ওভারে ৫৮ রান যোগ করেন দুজন। তবে পরের ব্যাটাররা ভালো করতে পারেননি। তাই ৮ উইকেটে ১৪৩ রানের বেশি করতে পারেনি বরিশাল।
মুনিম ৩০ বলে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন ২ চার ও ৪ ছক্কায়। গেইল ১৯ বলে ৪ চারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান করেন। জিয়াউর রহমান ১২ বলে ১৭ ও ডোয়াইন ব্রাভো ২১ বলে ১৭ রান করেন।
বোলিংয়ে কুমিল্লার পক্ষে সবচেয়ে সফল শহিদুল ইসলাম ২৫ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন। মইন আলি ২৩ রান খরচায় নেন ২ উইকেট।
ম্যাচসেরা হয়েছেন বরিশালের মেহেদি রানা।