ভালোবাসা দিবসে বিড়াল কোলে হাসপাতালে শিশু মেহজাবিন

গাজীপুরের শ্রীপুরে ভালোবাসা দিবসে অসুস্থ বিড়াল নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসা শিশু মেহজাবিনের প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে গেলে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা হয় মেহজাবিনের। এ সময় সে তার প্রিয় পোষা বিড়াল তুলতুলকে কোলে নিয়ে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান পলাশের কক্ষে বসে ব্যবস্থাপত্র নিচ্ছিল।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা কয়েকজন জানায়, বিড়ালের প্রতি মেহজাবিনের এমন দরদ আর ভালোবাসা তাদের মুগ্ধ করেছে। বিড়ালটিও বেশ অসুস্থ। সারাক্ষণ কোলেই থাকছে।

শিশু মেহজাবিন জানায়, সে একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়িতে সময় কাটানোর সময় একটি বিড়াল ছানাকে আদর করত সে। একসময় বিড়ালটি বস মেনে তার পোষ্য হয়ে যায়। আদর করে বিড়ালটির নাম রাখা হয় তুলতুল। সারা দিনই বিড়ালটি তার আশ-পাশে ঘুরঘুর করত। নাম ধরে ডাকলেই সাড়া দিয়ে দৌড়ে আসত।

সে জানায়, গত দুই দিন ধরে বিড়ালটি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল, যেখানে-সেখানে চুপচাপ শুয়ে পড়ে থাকত। ফলে তুলতুলকে নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে সে। একসময় নিরুপায় হয়ে বিড়ালটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ডাক্তার বলেছে তার আদরের বিড়াল ভালো হয়ে যাবে।

মেহজাবিনের বাবা সোহেল রানা বলেন, তুলতুল অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে মেহজাবিনও মন মরা হয়ে থাকত। পরে আজ তার অনুরোধে পশু হাসপাতালে নিয়ে আসলাম। আমরাও বাসার সবাই বেশ মন খারাপ করে আছি বিড়ালটির জন্য।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোজনুজ্জামন পলাশ বলেন, বিড়ালটি বেশ অসুস্থ। চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও আগে আসলে ভালো হতো।

তিনি বলেন, বিড়ালটির প্রতি শিশু মেহজাবিনের ভালোবাস আমাদের মুগ্ধ করেছে। তার এ ভালোবাসা অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। আমাদের প্রিয় নবীও বিড়াল ভালোবাসতেন।