কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের চিন্তা ছিল সাকিব-মুজিবের ৮ ওভার। তাদের সঙ্গে কাল যুক্ত হলেন দুই পেসার শফিকুল-মেহেদী রানা। চার বোলারের তোপে ১৪৩ রানের পুঁজিতেও প্রথম কোয়ালিফায়ার জিতে সরাসরি বিপিএল ফাইনালে ফরচুন বরিশাল। তাই সাকিবের রং হারানোর সুবিধা নিতে পারেনি কুমিল্লা। অবশ্য ১০ রানে হারা দলটি পাচ্ছে আরেকটি সুযোগ। কাল চট্টগ্রামের সঙ্গে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতলে কুমিল্লারও সুযোগ থাকবে ফাইনালে যাওয়ার।
বরিশালের ইনিংসের শুরুটা যত ভালো শেষটা তত সুখকর ছিল না। মুনিম শাহরিয়ার ও ক্রিস গেইল মিলে মাত্র ৬ ওভারে তুললেন ৫৭ রান। সপ্তম ওভারে শহিদুল ১৯ বলে ২২ করা গেইলকে ফেরাতেই বরিশাল কক্ষচ্যুত হয়ে যায়। মুনিম আরও দুই ওভার দলকে টানছিলেন ভালো ফর্মের ধারবাহিকতা রেখে। ১০ম ওভারে ফেরার আগে ৩০ বলে ৪ ছক্কা ও ২ চারে করলেন ৪৪। এ নিয়ে টানা চার ম্যাচে এই ওপেনারের ব্যাটে ঝড়ো ইনিংস পেল বরিশাল। মুনিমের দৃঢ়তায় ১০ ওভারে ৮৬ রান তুলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ দলটি। সাকিবের অহেতুক রান আউট বরিশালের বিরাট ক্ষতিটা করে দেয়। শান্তর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে এক রান নেওয়ার জন্য দৌড় দেন সাকিব। একেবারে থাকেন অপরপ্রান্তে গিয়ে কিন্তু শান্ত তখনো পপিং ক্রিজই ছাড়েননি। ২ বলে ১ রান করে সাকিবের বিদায়ের ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি বরিশাল। নিজের দিকে জিয়াউর ১২ বলে ১৭ ও ডুয়াইন ব্রাভো ২১ বলে ১৭ রান করে দলীয় রান কিছুটা বাড়ান। শেষ ১০ ওভারে সাকিবরা ৫৭ রান নেন। পেসার শহিদুল ২৫ রানে ৩ ও অফস্পিনার মঈন আলি ২৩ রানে ২ উইকেট নেন।
লক্ষ্য ছোট থাকলেও কুমিল্লার ব্যাটাররা এদিন স্বতঃস্ফূর্ত ছিলেন না। মুজিব-সাকিব-শফিকুল-রানাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে হাত খুলে খেলতে পারেননি কেউই। কুমিল্লার বোর্ডে তাই ১০ ওভারে উঠল মাত্র ৫৯। পরের ১২ বলে তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় কুমিল্লা। শুরুতে ৩০ বলে ২০ রানে ধুঁকতে থাকা মাহমুদুল হাসান জয় ফেরেন। ১২তম ওভারে শফিকুল তিন বলের ব্যবধানে ইমরুল (৫) ও ৩৫ বলে ৩৮ করা লিটনকে ফেরান। এই ধাক্কা সামলাতে ফাফ ডু প্লেসি ও মঈন আলি চেষ্টা করেন। শুরুর ১০ ওভারে পিছিয়ে পড়ার চাপ অবশ্য কাটিয়ে উঠতে পারেননি দুজনে। ১৫ বলে তিন ছক্কায় ২২ করা মঈন ব্রাভোর দারুণ ইনসুইংগারে বোল্ড। ওদিকে ডু প্লেসি ১৫ বলে ২১ করেও বড় শটের চাপে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন। শেষ পর্যন্ত সুনিল নারিন একটি করে ছক্কা ও চারে ১৬ বলে ১৭ করলেও তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ ছিল না।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বরিশাল : ১৪৩/৮ (মুনিম ৪৪, গেইল ২২, শান্ত ১৩, সাকিব ১, জিয়াউর ১৭, হৃদয় ১, ব্রাভো ১৭, সোহান ১১, মুজিব ৬*; শহিদুল ৩/২৫, মঈন ২/২৩, তানভীর ১/৩৩, নারিন ১/১৬)। কুমিল্লা : ১৩৩/৭ (লিটন ৩৮, জয় ২০, ইমরুল ৫, ডু প্লেসি ২১, মঈন ২২, নারিন ১৭; মুজিব ২/৩৩, শফিকুল ২/১৬, মেহেদী রানা ২/১৫)। ফল : বরিশাল ১০ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : মেহেদী হাসান রানা ।