নির্বাচনে পক্ষে না থাকায় বাবা-ছেলেকে পেটালেন ইউপি মেম্বার!

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দাওগাঁও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনে পক্ষে কাজ না করায় স্কুলছাত্র ও তার বাবাকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজয়ী মেম্বার প্রার্থী ধীরাজ আলীর বিরুদ্ধে।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে মুক্তাগাছার কাজী নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র জুবায়ের ইসলাম প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মেম্বার ধীরাজ আলী ও তার কর্মী সমর্থকেরা তাকে তুলে নিয়ে স্থানীয় এক দোকানে আটকে রেখে মারধর করেন। পরে তার বাবা সেকান্দার আলী খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে তাকেও মারধর করেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় স্কুলছাত্র জুবায়ের ইসলামকে উদ্ধার করে বিকেলে ফুলবাড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

সেকান্দার আলী জানান, গত ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী ধীরাজ আলীর পক্ষে কাজ না করে আমি পরাজিত মেম্বার প্রার্থী সাইদুর রহমানের পক্ষে কাজ করি। ধীরাজ আলী সেই থেকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

নির্বাচনের রেশ ধরেই আমার স্কুল পড়ুয়া ছাত্র জুবায়ের ইসলামকে দোকানে আটকে রেখে মারধর করে। খবর পেয়ে আমি যাওয়ার পর আমাকেও শারীরিক নির্যাতন করে। এরপর আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মেম্বার ধীরাজ আলী।

চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে মেম্বার ধীরাজ আলী জানান, গতরাতে পাশের বাড়িতে টিনের চালে ঢিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেকান্দার আলীর ছেলে জুবায়ের ইসলামকে লোকজন ধরে নিয়ে এসে দোকানে আটকে রাখে।

স্থানীয় লোকজন জুবায়েরকে মারধর করেছে। খবর পেয়ে তার বাবা সেকান্দর আলী ঘটনাস্থলে এসে বেয়াদবি করলে তাকে আমি দুইটি থাপ্পড় দিয়েছি। এর বেশি কিছু ঘটেনি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে দাউগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার জামাল উদ্দিন বাদশা জানান, পিতা-পুত্রকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। আগে জুবায়ের এর চিকিৎসা করার কথা বলেছি। পরে এ বিষয়ে থানা-পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান তিনি।

মুক্তাগাছা থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।