রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফিশারিজ বিভাগের মাস্টার্সের (২০২০) চলমান একাডেমিক পরীক্ষার একটি কোর্সের প্রশ্ন পরীক্ষার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়েছেন ওই বিভাগের এক শিক্ষক।
এ ঘটনা বিভাগের অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানাজানি হলে পরীক্ষা কমিটি ওই কোর্সের পরীক্ষাটি স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে প্রশ্নটিও বাতিল করা হয়েছে। অসাবধানতার ফলে এমনটি ঘটেছে বলে দাবি বিভাগের পরীক্ষা কমিটির।
জানা যায়, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের কোর্সটি ফিশারিজ বিভাগের মাস্টার্সের দ্বিতীয় সেমিস্টারের (এফএমএমসি-৬৪১)। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি এই কোর্সটির পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ইসতিয়াক হোসাইনের ফেসবুক স্টোরিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়। যেটি দীর্ঘক্ষণ ফেসবুক স্টোরিতে ছিল। ঘটনাটি জানার পর গত রবিবার বিভাগের পরীক্ষা কমিটি অনুষ্ঠিতব্য ওই কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে পোস্ট হওয়া প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ইসতিয়াক হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন। তিনিই এ বিষয়ে বলতে পারবেন।’
প্রশ্ন ফোনে ছবি তুলে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুঃখিত! আমি কিছুই মন্তব্য করতে পারছি না।’
এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘ওই শিক্ষক আমাদের জানিয়েছেন অসাবধানতাবশত পোস্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি জানার পর পরীক্ষা কমিটি ওই প্রশ্ন বাতিল করেছে। যেহেতু পরীক্ষা এখনো বেশ কিছুদিন পরে সে জন্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান আছে পরীক্ষার প্রশ্ন বাতিল করার।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘বিভাগ থেকে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে থাকলে মনে করি, ওই শিক্ষক দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। পরীক্ষা কমিটির সভাপতি বিষয়টি জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’