হকিংয়ের ব্যক্তিগত ব্ল্যাকবোর্ড দেখার সুযোগ, খুলতে পারে ৪২ বছর আগের জট

ইংল্যান্ডের সায়েন্স মিউজিয়াম অব লন্ডনে দেখতে পাওয়া যাবে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, বিশ্ব তাত্ত্বিক ও বিজ্ঞান-বিষয়ক জনপ্রিয় ধারার লেখক স্টিফেন হকিংয়ের ব্যক্তিগত রহস্যময় ব্ল্যাকবোর্ড।

২০শ শতকের অন্যতম সেরা এই তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ৪২ বছর আগে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের অফিস কক্ষে রাখতের এক ঢাউস ব্ল্যাকবোর্ড। ব্যক্তিগত সেই ব্ল্যাকবোর্ড জুড়ে যে সব কাল্পনিক ছবি এঁকেছিলেন হকিং, লিখেছিলেন জটিল বহু সমীকরণ, চক দিয়ে লিখে রেখেছিলেন রহস্যে মোড়া বহু শব্দ, এ বার হয়তো সে সবের জট খুলতে পারে।

এই ব্ল্যাকবোর্ড ঘিরে সব সময়ই আগ্রহ ছিল পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীসহ বিভিন্ন মানুষের। এতে নানা রকম রেখাচিত্র, ছবি, মুখাবয়ব, বিচিত্র প্রাণীসহ বিভিন্ন ‘আজগুবি’ শব্দ, সমীকরণ রেখে গেছেন হকিং।

ইংল্যান্ডের সায়েন্স মিউজিয়াম অব লন্ডনে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হকিংয়ের অফিস ঘরের নানা সামগ্রী নিয়ে প্রদর্শনী। সেখানেই দেখা যাবে- ৪২ বছর ধরে জটিল রহস্যে মোড়া হকিংয়ের একান্ত ব্যক্তিগত সেই ঢাউস ব্ল্যাকবোর্ড, খুব কাছ থেকে যা দেখার সৌভাগ্য হয়নি এত দিন বিজ্ঞানী, গবেষকদের। এমনকি, হকিংয়ের ঘনিষ্ঠ ছাত্রছাত্রীদেরও।

এই ব্রহ্মাণ্ড যে উত্তরোত্তর আরও বেশি গতিতে চার দিকে ফুলে-ফেঁপে উঠছে তা নিয়ে পিএইচডি-র সময় যে গবেষণাপত্রটি লিখেছিলেন হকিং, সেটিও থাকবে প্রদর্শনীতে। থাকবে তার সেই বিখ্যাত হুইলচেয়ার। জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে যৌবন থেকে যা আমৃত্যু সঙ্গী ছিল হকিংয়ের। প্রদর্শনী চলবে জুন পর্যন্ত। তার পর হকিংয়ের সেই সব সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হবে ব্রিটেনের অন্যান্য মিউজিয়ামেও।

হকিং সেই ব্ল্যাক বোর্ডে এমন বহু অসমাপ্ত গাণিতিক সমীকরণ লিখে রেখে গিয়েছেন যার জট খোলা সম্ভব হলে হয়তো ব্রহ্মাণ্ডের অনেক অজানা কথাই জানা হয়ে যাবে এখনকার বা পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের।