বামনায় নির্বাচনী সহিংসতা

ছাত্রলীগ সভাপতি সম্পাদক জেলহাজতে বরগুনা প্রতিনিধি

নির্বাচনী সহিংসতার মামলায় বরগুনার বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়া গোলদার ও সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হোসেন জনিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে বরগুনার জুডিশিয়াল-১ বামনা কোর্টের বিচারক রাসেল মজুমদারের আদালতে ১০ আসামি হাজির হয়ে জামিন চাইলে তিনি এ দুজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান এবং বাকি ৮ জনকে জামিন প্রদান করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২১ জুন প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বামনা উপজেলার চারটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বে এ নির্বাচন ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে নির্বাচন স্থগিত করেন নির্বাচন কমিশন। ওই স্থগিত হওয়া নির্বাচনের পূর্বে গত ২২ মার্চ বামনা উপজেলার গোলচত্বরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার শিকার হয় মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী তরিকুজ্জামান সোহাগ। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনার এক দিন পরে গত ২৩ মার্চ বরগুনা কোর্টে তরিকুজ্জামান সোহাগ বাদী হয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের ২৬ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত ১০ আসামিকে হাজির হতে নির্দেশ দেয়। বুধবার ওই মামলায় প্রথম শুনানির দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বাকিদের জামিন দেয়।

মামলার বাদী স্বতন্ত্র প্রার্থী তরিকুজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘বাকি আসামিদের বিচারও আদলত করবেএ বিশ্বাস আমার রয়েছে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান পান্না বলেন, ‘আমার মক্কেলদের একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হব।’