অনেক ঘটনার পর কিংস অ্যারেনায় ম্যাচ হতে চলেছে। ক্লাব সভাপতি হিসেবে কী অনুভূতি আপনার?
ইমরুল : নিজস্ব ভেন্যুতে খেলাটা অবশ্যই গর্বের। শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, গোটা এশিয়ায় গুটিকতক ক্লাবের এরকম নিজস্ব ভেন্যু আছে। আমাদের দেশে এটাই সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকাধীন মাঠ। যে করেই হোক, শেষ পর্যন্ত এই গৌরবের অংশীদার হতে পেরে আনন্দিত।
এই কমপ্লেক্স গড়ার পেছনের গল্পটা জানতে চাই।
ইমরুল : কয়েক বছর আগে এটা একটা পতিত জমি ছিল। মাত্র ৩-৪ বছরের মধ্যে এই পর্যায়ে আসা অনেকটা ঘোরের মতো ব্যাপার। এত অল্প সময়ে স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে, কল্পনাতীত ছিল। প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। স্বপ্নটা যখন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে, দেশের জন্য এই কমপ্লেক্স একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে গোটা ক্রীড়াঙ্গনেই একটা নাড়া দিতে সক্ষম হব।
প্রায় ৩০০ বিঘার ওপর হচ্ছে এই কমপ্লেক্স। বসুন্ধরা গ্রুপ কেন এরকম কিছুর কথা ভাবল?
ইমরুল : বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন, তারা সবাই ক্রীড়াপ্রেমী। আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের (আহমেদ আকবর সোবহান) বড় ভাই আব্দুর সাদেক স্যার ছিলেন কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড়। চেয়ারম্যান স্যার নিজেও শীর্ষ পর্যায়ে হকি খেলতেন। ওনার ছেলেরাও বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। এই ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ পরিবারটি এটার পেছনে আছে বলেই এই স্বল্প সময়ে স্বপ্নটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।
সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাই আছে অ্যারেনায়। এই ভাবনাগুলো কোত্থেকে নেওয়া?
ইমরুল : আমরা একক কোনো স্টেডিয়ামকে অনুসরণ করিনি। আগে জানার চেষ্টা করেছি একটা পেশাদার ক্লাবের ভেন্যুতে কী কী থাকা প্রয়োজন। এএফসির গাইডলাইন মেনে এই স্টেডিয়াম করেছি। এছাড়া বেশ কিছু স্টেডিয়াম নিয়ে গবেষণা করে চেষ্টা করেছি এখানে সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার। ৩-৪ মাসের মধ্যে বাকি স্থাপনার কাজ শেষ হবে। প্রায় আড়াই হাজার লাক্সের এ ক্যাটাগরির ফ্লাডলাইট বসানো হচ্ছে। সুযোগ-সুবিধা এমনভাবে করা হয়েছে, চাইলে বিশ্বকাপের ম্যাচও এই মাঠে আয়োজন করা সম্ভব।
কিংস নিজেদের মাঠে খেলছে। এটা কি অন্যান্য ক্লাবকে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল?
ইমরুল : অনেকেই হয়তো এটা দেখে উদ্বুদ্ধ হবেন। জানতে পেরেছি আবাহনীও কমপ্লেক্সের কাজ শুরু করেছে জোরেশোরে। এটা দেখে অন্যরা উদ্যোগী হলে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্যই ভালো হবে।
স্পোর্টিং ক্লাব বলতেই মানুষ আবাহনী-মোহামেডানকে জানে। কিংসের জন্য সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করাও নিশ্চয়ই একটা বড় চ্যালেঞ্জের?
ইমরুল : মোহামেডান-আবাহনী দুটি আবেগের নাম। নতুন দল হিসেবে সেই পর্যায়ে পৌঁছানো অবশ্যই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে আমাদেরও একটা সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। ইতিমধ্যে খেলার মাধ্যমেই আমরা সমর্থকদের মনে একটা জায়গা পেতে সমর্থ্য হয়েছি। আমাদের খেলায়ও কিন্তু কিছু দর্শক নিয়মিত হচ্ছে।