সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের পৌর শহরে ফার্মেসিতে সৌদি প্রবাসির এক স্ত্রীকে ছয় টুকরো করে হত্যার ঘটনায় পলাতক আসামি জিতেশ চন্দ্রকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
শুক্রবার দুপুর ১২টায় সিআইডির একটি দল ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
এ ঘটনায় নিহত শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার (৩৫) ভাই বাদী হয়ে জিতেশ চন্দ্র গোপকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ শহরের পৌর পয়েন্টের একটি মার্কেটের অভি মেডিকেল নামে এক ফার্মেসি থেকে ওই নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী ছরুক মিয়ার স্ত্রী।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজ মালিকানাধীন বাসায় সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী তার তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বাসার নিকটবর্তী ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটে অভি মেডিকেল ফার্সেমিতে ওষুধ ক্রয়সূত্রে যাতায়াত করতেন। বুধবার বিকেলে ফার্মেসিতে যাচ্ছেন বলে বাসা থেকে বের হন শাহনাজ। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
এদিকে নিহতের ছোট ভাই তার বোন বাসায় ফেরেননি জানতে পেরে ওই ফার্মেসিতে যান বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। তখন ফার্মেসি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে মোবাইলে কল দিলে তিনি জানান, তার বোন ওষুধ না পেয়ে চলে গেছেন।
নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করলে অন্য এক নারী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি (নিহত নারী) সিলেট ওসমানীতে আছেন।
পরে আরেকবার ফোন দিলে একই নারী ফোন রিসিভ করে জানান, শহরের আর্ট স্কুল এলাকায় আছেন। এ রকম একেক সময় একেক কথা বলে বিভ্রান্ত করতে থাকেন ওই নারী। পরে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে শাহনাজের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রাতভর বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও নিহত শাহনাজের সন্ধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলামের উপস্থিতিতে জগন্নাথপুর থানার পুলিশ তালাবদ্ধ অভি ফার্মেসির তালা ভেঙে দোকানে অভিযান চালায়।
এ সময় দোকানের রোগী দেখার টেবিলের নিচে বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো ওই নারীর শরীরের ছয় টুকরা (গলা, পেট, হাত-পা) বিচ্ছিন্ন অংশ দেখতে পায় পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে ফার্মেসির মালিক জিতেশ গোপ ও তার পরিবার পলাতক। জিতেশ গোপ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সইলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরে বাসা ভাড়া করে বসবাস করে আসছেন।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ ওই ফার্মেসির সিলিং থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছুরি দিয়েই শাহনাজকে হত্যা করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।