উত্তেজনার মধ্যেই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ রাশিয়ার

ইউক্রেনের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই সর্বাধুনিক হাইপারসনিক, ক্রুজ এবং পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে রাশিয়া।

রাশিয়া বলেছে, ‌‘পরিকল্পিত মহড়ার’ অংশ হিসাবে শনিবার হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল মহড়া চালিয়েছে রাশিয়া।

এক বিবৃতিতে রাশিয়া বলছে, সব ক্ষেপণাস্ত্র তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। এর মাধ্যমে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যে আঘাত হানার কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মহড়ায় কিনঝাল এবং জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কিছু অন্যান্য অস্ত্রের মহড়া চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়া এমন এক সময় এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল যখন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সীমান্তে অবস্থান করা রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনে হামলা চালাতে প্রস্তত।

ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রাশিয়া এক লাখ ৯০ হাজারের বেশি সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম সমাবেশ করায় স্নায়ুযুদ্ধের পর পূর্ব ইউরোপে এবারই সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, সাবেক সোভিয়েত প্রতিবেশি ইউক্রেনের সীমান্তের আরও কাছে যেতে শুরু করেছে রাশিয়ার সৈন্যরা।

ইউক্রেন যেন ন্যাটোর সদস্যপদ লাভের আবেদন প্রত্যাহার করে নেয় সেজন্য দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। ১৯৪৯ সালে গঠিত ন্যাটোকে রাশিয়া বরাবরই পাশ্চাত্য শক্তিসমূহের আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে মনে করে।

ইউক্রেনে আক্রমণ অনিবার্য নয় উল্লেখ করে লিথুয়ানিয়া সফররত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, আমরা আশা করছি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংঘাতের কিনারা থেকে ফিরে আসবেন।

এদিকে, পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়া সীমান্তের কাছে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গোলার আঘাতে ইউক্রেনের এক সৈন্য নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। যুদ্ধের তীব্র শঙ্কার মাঝে শনিবার সকালের দিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় ওই সৈন্য নিহত হয়েছেন।