আকাশে ডানা মেলে উড়ছিল একঝাঁক হলদে মাথার পাখি। কিন্তু হঠাৎ কী যেন হলো! কয়েকটি বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ল। এর মধ্যে কিছু আবার উড়ে গেল। অনেক পাখি আশপাশে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি মেক্সিকোর চিহুহুয়ায় এমন ঘটনায় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের ভেতর। কেন এত পাখি এভাবে মারা গেল? এ নিয়ে অবশ্য কিছু উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে সকাল ৮টা কুড়ি নাগাদ ফোন পান। স্থানীয়রাই হলুদ মুখওয়ালা কালো রঙের একঝাঁক পাখির মৃত্যুর কথা জানান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও পাখিদের বাঁচানো যায়নি।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কার্লোস বোটেরোর মতে, এমন উদ্ভট ও উদ্বেগজনক ঘটনার কারণ হয়তো এখন অনেকেই অনুমান করতে পারছেন। পাখি কালো মেঘের ভেতর দিয়েও উড়ে যেতে পারে। কিন্তু এর প্রকৃত রহস্য উন্মেচনের জন্য, মৃত পাখির নমুনা পরীক্ষা করাটা জরুরি। আর এজন্য অপেক্ষাও করতে হবে। সম্প্রতি সিসিটিভি ফুটেজে পাখিগুলোর এমন বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে স্থানীয়দের ভেতর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কার্লোস বোটেরো আরেকটি বিষয় ধারণা করছেন, সেটি হয়তো কোনো শিকারি পাখির ধাওয়ার কারণে এলোপাতাড়ি উড়তে থাকে এই পাখিগুলো। একপর্যায়ে বাড়ির ছাদে এসে ধাক্কা খায়। তার সঙ্গে একমত যুক্তরাজ্যের সেন্টার ফর ইকোলজি অ্যান্ড হাইড্রোলজির পক্ষীবিজ্ঞানী রিচার্ড ব্রাউটন। তিনি নিশ্চিত, পাখি কালো ঝাঁকগুলো তৈরি করে উড়তে থাকে। তীক্ষè শিকারি পাখিকে বিভ্রান্ত করতেই এমনটা করে থাকে। যেনও শিকারি কোনো পাখিকে নির্দিষ্টভাবে টার্গেট করতে ব্যর্থ হয়। তবে ছত্রভঙ্গ করতে শিকারি পাখিও অনেক সময় কালো ঝাঁকের মধ্যেই আচমকা ঢুকে যায়। এতে ছোট পাখিগুলো আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু যাই ঘটুক না কেন, পাখিদের এভাবে দেয়াল অথবা মাটিতে আছড়ে পড়ার বিষয়টিকে একদমই বিরল বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেউ কেউ আবার দাবি করেছেন, ৫জি প্রযুক্তির কারণেই পাখিগুলোর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দূষণকেই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছে। কেউ আবার বলছেন, পাখিগুলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। অবশ্য বিশেষজ্ঞদের কোনো ব্যাখ্যাই মিলছে না ঘটনার সঙ্গে। পৃথিবীতে এমন কিছু পাখি রয়েছে যারা ঝাঁক বেঁধে আত্মহত্যা করে। সেই আত্মহত্যার পেছনের কারণও বের করেছেন বিজ্ঞানীরা।