রাশিয়া কী চায়, জানতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। চলমান সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশাবাদও জানিয়েছেন তিনি।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার খবরে রবিবার বলা হয়, ইউক্রেনে যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে রাশিয়া, এমন আশঙ্কার মধ্যেই পুতিনের সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছার কথা বলছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
রাশিয়ার কোনো উসকানিতে ইউক্রেন সাড়া দেবে না বলেও মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি।
এদিকে, উত্তেজনা নিরসনে রোববার রুশ প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
রুশ-সমর্থিত বিদ্রোহীদের সাথে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর বিরোধ বেশ কয়েকবছর ধরেই চলছে। তবে সম্প্রতি সেখানে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা করছে পশ্চিমা বিশ্ব।
বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দাবি করেছেন, ১৯৪৫ সালের পর থেকে রাশিয়া ইউরোপে সবচেয়ে বড় যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে।
বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বরিস এই মন্তব্য করেন বলে রবিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।
বিবিসির সোফি রাওর্থের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘১৯৪৫ সালের পর থেকে ইউরোপে সবচেয়ে বড় যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। এই যুদ্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও সবদিক থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে ঘিরে ফেলতে একটি আক্রমণ শুরু করতে চায় রাশিয়া।’
নিরাপত্তা বিষয়ক একটি বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে অন্য বিশ্বনেতাদের সাথে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এখন জার্মানির মিউনিখে অবস্থান করছেন। শনিবার সেখান থেকেই সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন সীমান্তে বর্তমানে ১ লাখ ৬৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার রুশ সেনা অবস্থান করছে। রাশিয়া এবং বেলারুশ উভয় সীমান্তেই এসব সেনা অবস্থান করছে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে পূর্ব ইউরোপের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সংখ্যাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার রাশিয়া জানায়, সামরিক মহড়া শেষে ইউক্রেনে সীমান্ত থেকে ঘাঁটিতে ফিরতে শুরু করেছে রুশ সেনারা। কিন্তু পশ্চিমা দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, মস্কোর এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তারা পাননি। বরং ইউক্রেন সীমান্তে সেনা সংখ্যা আরও বাড়িয়েছে মস্কো।
এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে ইউক্রেনে হামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন এ বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, আগামী যেকোনো দিনে এই আগ্রাসন চালানো হতে পারে।
তবে ক্রেমলিন এখনো বলছে ইউক্রেনে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।