‘আটকে রাখা’ করিম উদ্দিন ভরসাকে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ

জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য করিম উদ্দিন ভরসাকে (৮৭) আগামী ৬ মার্চ আদালতে হাজির করতে তার ছেলে মো. সাইফুল উদ্দিন ভরসাকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

সাইফুল উদ্দিন ভরসা জিম্মায় নিয়ে করিম উদ্দিন ভরসাকে বেআইনিভাবে আটক রেখেছেন বলে অভিযোগ তার অপর সন্তানদের। এ বিষয়ে শফিকুল ইসলাম ভরসাসহ করিম উদ্দিনের ৯ সন্তানের করা একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রোববার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আফরোজা ফিরোজ, কামরুন মাহমুদ, সাবরিনা জেরিন ও এম আব্দুল কাইয়ূম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। 

পরে আইনজীবী আফরোজা ফিরোজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, করিম উদ্দিন ভরসার দুই স্ত্রীর ঘরে ১৬ সন্তান। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর রংপুর আদালত এক আদেশে করিম উদ্দিন ভরসাকে তার প্রথম স্ত্রীর সন্তান সাইফুল উদ্দিন ভরসার জিম্মায় দেন। এরপর তার সঙ্গে আর দেখা করতে পারছেন না অপর সন্তানেরা। ছয় মাস ধরে তারা তাদের বাবার খোঁজও জানতে পারছেন না। তাই করিম উদ্দিন ভরসার অবস্থান জানতে এবং তাকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিতে তার অপর ৯ সন্তান গত বৃহস্পতিবার ওই রিট করেন। শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ ওই আদেশ দেন।

ছেলে সাইফুল উদ্দিন ভরসার হেফাজতে করিম উদ্দিন ভরসাকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূতভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিতে আদালতের সামনে তাকে হাজির করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে করিম উদ্দিন ভরসাকে আবেদনকারীদের (৯ সন্তান) যৌথ নিরাপদ হেফাজতে কেন দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, করিম উদ্দিন ভরসার ছেলে সাইফুল উদ্দিন ভরসা, রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি ও গুলশান থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

করিম উদ্দিন ভরসা জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসন, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।