‘আপনার ১৭ জার্সি নম্বরটা কি ব্যবহার করতে পারি?’ এবি ডি ভিলিয়ার্সকে বলেছিলেন ডেয়াল্ট ব্রাভিস। অনুমতিও পেয়ে যান। ওই জার্সিতেই দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে গত মাসে বিশ্বকাপ মাতান এই তরুণ। এবির থেকে পাওয়া নানা টিপসে ২ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে করেছেন আসর সর্বোচ্চ ৫০৬ রান। সেই থেকে ‘বেবি এবি’ বা এবি’র নতুন ভার্সন হয়ে ওঠেন তিনি। নিলামে চেন্নাই, পাঞ্জাব ও মুম্বাইয়ের ত্রিমুখী লড়াই শেষে ৩ কোটি রুপিতে তাকে কিনে নিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।
দেশ রূপান্তরের শিহাব উদ্দিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এবির প্রতি মুগ্ধতা, ক্রিকেটে আসা ও নিজের লক্ষ্যের কথা জানান ব্রাভিস অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান করলেন। এত বড় আসরে এই অর্জনকে কীভাবে দেখছেন?
ডেয়াল্ট ব্রাভিস : হ্যাঁ, এটা দারুণ। এই অর্জনের জন্য স্রষ্টার কাছে আমি কৃতজ্ঞ ও রোমাঞ্চিত।
বিশ্বকাপের আগে থেকেই আপনাকে দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন প্রজন্মের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসরে ভালো করে সেই প্রমাণও রাখলেন। নিজে কতটা সন্তুষ্ট?
ব্রাভিস : আমি পা মাটিতেই রাখছি। হ্যাঁ, চারপাশের শোরগোল বন্ধ রাখা কঠিন, কারণ ক্রিকেট আমার ভালোবাসা। আমি চেষ্টা করব সবসময় এভাবে সেরাটা খেলতে।
আপনাকে ‘বেবি এবি’ বলা হচ্ছে। এমনটা বলার কারণ কী?
ব্রাভিস : আমি বোঝাতে পারব না এবি’র সঙ্গে নিজের নাম দেখতে পারা আমার জন্য কতটা সম্মানের। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো একটা ক্যাম্পে একজন এই - এবি ২.০ (বেবি এবি) টার্মটা ব্যবহার করে। এরপর থেকেই এটা রটে গেল। হ্যাঁ, ব্যাটিং স্টাইলে, শটে এবং দাঁড়ানোর পজিশনে তার (এবি) সঙ্গে আমার মিল আছে। কারণ আমি টিভিতে এবিকে দেখতাম আর তার সবকিছু অনুসরণ করতাম। সেই থেকে তার মতো ব্যাটিংটা চলে এসেছে। আর একটা বিষয় হতে পারে আমি তার মতো অ্যাফিসের (স্কুল, এখান থেকেই ডি ভিলিয়ার্স ও ডু প্লেসি উঠে এসেছেন) ছাত্র। তাছাড়া এবির কোচ ডিওন বোটসকে আমিও পেয়েছি। তার সঙ্গে কাজ করায় আমাদের মধ্যে আরও সাদৃশ্য চলে এসেছে। আর সবচেয়ে বড় কারণ উনি আমার ক্রিকেট নায়ক আইডল। যুব বিশ্বকাপের আগে আমি তার কাছে জার্সিতে ১৭ (এবির জার্সি নম্বর) নম্বর পরার অনুমতি চেয়ে নিয়েছি।
এবির সঙ্গে প্রথম দেখার অনুভূতিটা কেমন ছিল?
ব্রাভিস : এবিকে প্রথম দেখেছিলাম প্রিটোরিয়ার একটি কালচারাল ক্লাবে ২০১৯ সালের মে-তে। পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম, আমার ভাই রেইনার্ড এবিকে প্রথম দেখে। আমি তাকে দেখে আনন্দে ভাষা হারিয়ে ফেলি। সেদিন শুধু একটি ছবি তুলেছিলাম আর কিছুই করতে পারিনি। ৫ মাস পর অক্টোবরে বন্ধু শাল্ক এঙ্গেলব্রিচটের সঙ্গে অ্যাফিসে অনুশীলনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। আমাদেরই একজন এসে বলল যে এবি ডিওন বোটসের অফিসে এসেছেন। আমরা ব্যাট-প্যাড ফেলে ছুট দিলাম অফিসে। গিয়ে দেখি আমার নায়ক আমার হাত ছোঁয়া দূরত্বে। আজ কোনো ইতস্ততার কিছু নেই, আমরা একদম তার সামনে বসলাম। শুরুতে মোহ কাটছিল না। এরপর আমাদের প্রশ্ন আর থামছিলই না। সেদিন আর অনুশীলন করিনি, পুরো দেড় ঘণ্টা আমরা তার সঙ্গে ছিলাম।
আপনার ক্রিকেটে আসার পেছনের গল্পটা কী? রাগবিও তো আপনাদের দেশে খুব জনপ্রিয়।
ব্রাভিস : আমার মা সবসময়ই এ গল্পটা বলেন যে আমার উচ্চারিত প্রথম শব্দটাই নাকি- বল। আপনি বলতে পারেন আমি এক হাতে ব্যাট ও অন্য হাতে বল নিয়ে জন্মেছি। ছোটবেলায় মায়ের থ্রো করা বলে অনেক ব্যাট করেছি। রেইনার্ড ও আমি আমাদের উঠানে সুযোগ পেলেই ক্রিকেট খেলতাম। প্রাইমারি ও হাই স্কুলের দিনগুলোয় সপ্তাহিক ছুটিতে বন্ধুদের বাড়িতে গেলেও আমরা ক্রিকেটই খেলতাম, অন্য কোনো খেলা আমাদের টানত না। ২০১০-এ বাবা উঠানে একটি সিমেন্টের পিচ বানিয়ে দেন এবং নেটও কিনে দেন। আমরা দুই ভাই তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ি। রেইনার্ড সবসময় বল করত আমি ব্যাট করতাম। হ্যানোপস প্রাইমারি স্কুল আমার প্রথম স্কুল। আর এটা দক্ষিণ আফ্রিকায় সেরা প্রাইমারি ক্রিকেট স্কুল নামে পরিচিত। এরপর গত ৬ বছর ধরে অ্যাফিসে ডিওন বোটসকে কোচ ও মেন্টর হিসেবে পেয়েছি। আমার পরিবার ক্রিকেটটাই ভালোবাসে। আমাদের ঘরে আইপিএল খুব বড় আসর কারণ একেকজন একেক দল সমর্থন করে।
এবি আর ডু প্লেসির স্কুলেই আপনি ক্রিকেটে এসেছেন। তাদের মতো সফল হবেন বলে বিশ্বাস রাখেন? জাতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আপনার স্বপ্ন কী?
ব্রাভিস : অ্যাফিসের ক্রিকেট ইতিহাস খুব সমৃদ্ধ। ৬ বছর আগে যখন স্কুলের ক্লাব হাউজ দিয়ে হাঁটছিলাম, এখান থেকে উঠে আসা সেরা গ্রাজুয়েটদের জার্সি আমি দেখি। সেখানে এবি ও ফাফের জার্সি দেখে দাঁড়িয়েছিলাম কিছুক্ষণ। অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি প্রতিভা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রম দিয়ে আমিও তাদের মতো সফল হতে পারব। আমি প্রোটিয়াদের হয়ে তিন ফরম্যাটেই খেলার স্বপ্ন দেখি। এছাড়া আইপিএল ও বিশ্বের অন্যান্য টি-২০ টুর্নামেন্টেও খেলতে চাই।
কোন ফরম্যাট আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট গত কয়েক বছরে খুব ভালো অবস্থায় নেই। আপনি জাতীয় দলে এলে কীভাবে অবদান রাখতে চান?
ব্রাভিস : আমার কাছে তিন ফরম্যাটই গুরুত্বপূর্ণ। ফরম্যাট অনুযায়ী আমি ব্যাটিংয়ে মানিয়ে নিই। হ্যাঁ, আমাদের ক্রিকেট কিছুটা কঠিন অবস্থায়। কিন্তু এবি আমাকে বলেছেন, আগুন যতই উত্তাপ ছড়াক না কেন, একজন প্রোটিয়া তাতে সবসময়ই টিকে থাকে। এবং আমি এটা বিশ্বাস করি।