ক্যানটিনে খাওয়ার ‘নিয়মকানুন’ না মানার জেরে জাবিতে পাল্টাপাল্টি মারধর

হলের ক্যানটিনে খেতে বসার ‘নিয়মকানুন’ না মানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ক্যানটিনে শুরু হওয়া বাগ্‌বিতণ্ডা থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিন দফায় মারামারি হয়েছে। এ সব মারামারির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

হল প্রশাসন সূত্র জানায়, গত রবিবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ক্যানটিনে খেতে যান বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের নয় আবাসিক শিক্ষার্থী। তারা ক্যানটিনে খেতে বসার ‘নিয়মকানুন’ মানেননি এ অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নিপাতুল ইসলামকে চড়-থাপ্পড় দেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মিশান শিকদার ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল্লাহ আল সা’দ।

জানা যায়, এ ঘটনার পর সোমবার রাত দেড়টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে ঘুরতে যাওয়া উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ও বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক ছাত্র রবিন রহমানকে চড়-থাপ্পড় দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সাকিবুল ইসলাম ওরফে ফারাবী। সাকিবুল পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন সাকিবুল। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, মীর মশাররফ হোসেন হল ও শহীদ সালাম বরকত হলের ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী তার পথ আটকান। তাদের মধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থী মিলে সাকিবুলকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরতরা সাকিবুলকে উদ্ধার করেন।

অভিযুক্ত এই ১১ শিক্ষার্থী হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল্লাহ আল সা’দ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মিশান শিকদার ও মেহেদী সাফি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আজিম সাকিব, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের রবিন রহমান, অর্থনীতি বিভাগের মোহাম্মদ মুগ্ধ, মার্কেটিং বিভাগের রাহাত আলম ওরফে রিজভী ও শহিদুল ইসলাম। তারা সবাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র।

এ ছাড়া মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মৃন্ময় দাস, ইংরেজি বিভাগের হামিদুল্লাহ সালমান এবং শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক ছাত্র এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিহাব হাসিব এই মারধরে অংশ নেন বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে মারামারিতে অংশ নেয়া দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ হেল কাফী বলেন, ‘আমরা ঘটনা শুনেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং আমার হলের ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি মিটমাটের জন্য সময় চেয়েছেন। আমরা সময় দিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’