ওমান থেকে তুরস্কের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে নিখোঁজ আমিন উল্লাহ সুমন (২৫) নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার তীব্র শীতে অসুস্থ হয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সুমন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের চরশাহাভিকারী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। গ্রিস যাওয়ার পথে সুমন নিখোঁজ হন বলে তার পরিবার জানিয়েছিল।
গতকাল মঙ্গলবার সুমনের ভাই গ্রিস প্রবাসী সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে মরদেহের ছবি পাঠিয়ে জানান, ৩১ জানুয়ারি সুমন অন্য ২০ জনের সঙ্গে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে আটক হয়। দুদিন আটক রাখার পর তাদের তুরস্কে পাঠানো হয়। তুরস্কে ফেরার সময় শীতে সুমনসহ বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। ইস্তাম্বুলের হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
সুমনের নিখোঁজের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নজরে আসে ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থানরত সোনাগাজীর বড়ধলী গ্রামের আবদুর রহমানের। তিনিই ইস্তাম্বুলের হাসপাতালে সুমনের মরদেহ শনাক্ত করে তার ভাই সাইফুল ইসলামকে জানান।
পরিবার জানায়, সোনাগাজীর চরশাহাভিকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি পাস করে সুমন। ২০১৯ সালে জীবিকার তাগিদে সে ওমান যায়। দুই বছর সেখানে থাকার পর তুরস্কে যায়। সিলেটের এক দালালের সঙ্গে ১০ লাখ টাকা চুক্তি করে সুমন তুরস্ক সীমান্ত পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা করে একাধিকবার ব্যর্থ হয়। সবশেষ ৩১ জানুয়ারি পরিবারকে জানিয়ে চতুর্থবারের মতো গ্রিসে ঢোকার চেষ্টা করে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার।