ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলের ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জিতে নিল বসুন্ধরা কিংস। নিজ আঙিনায় ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার রবসন রবিনহো গোটা ম্যাচ জুড়েই দেখিয়েছেন লাতিন ঝলক। গোল করেছেন একটি। ইব্রাহিম ও ইয়াছিন আরাফাতকে দিয়ে করিয়েছেন বাকি দুটি। যদিও নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবার জোড়া গোলে শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই করেছে রহমতগঞ্জ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।
চোটের কারণে কাল কিংস কোচ অস্কার ব্রুজন মাত্র একজন বিদেশিকে নিয়ে সাজিয়েছিলেন প্রথম একাদশ। বসনিয়ান স্ট্রাইকার স্তোয়ান ভ্রানিয়াস ও ইরানি ডিফেন্ডার খালিদ সাফিই না থাকায় ম্যাচটা কঠিন হয়ে যায় তাদের জন্য। বিশেষ করে খালিদের না থাকায় কিংসের রক্ষণ আলগা হয়েছে বারবার। তবে রবিনহোর মতো প্লে-মেকার থাকলে একজনই যে যথেষ্ট তার প্রমাণ ছিল ম্যাচ জুড়েই।
রহমতগঞ্জ এমনিতেই আক্রমণে দুই আফ্রিকানের কারণে মৌসুমে সাফল্য পাচ্ছে। আর চৌকস কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানীর প্রতি-আক্রমণনির্ভর কৌশলও ফলে যাচ্ছে নিয়মিত। সেই কৌশলেই ২৭ মিনিটে কিংসকে স্তব্ধ করে লিড নেয় রহমতগঞ্জ। কিরনের কর্নারে চিজোবার হেড ইব্রাহিমের মাথা ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় জালে। পিছিয়ে পড়ে মরিয়া আক্রমণে গিয়ে মাত্র ৪ মিনিটেই ফল পায় বসুন্ধরা। দুটি গোললাইন সেভের পর বুদ্ধিদীপ্ত গোল করেন রবিনহো। প্রথমে গোলমুখ থেকে বিপলু আহমেদের শট কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন কিরগিজ ডিফেন্ডার আশররভ। ফিরতি বলে নাম্বার নাইন পজিশনে খেলা এলিটা কিংসলের ব্যাক ভলি গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান ফজলে রাব্বি। তবে সেই বল চলে যায় রবিনহোর কাছে। মাসুক মিয়ার সঙ্গে দ্রুত বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের বাঁদিক দিয়ে ঢুকে রহমতগঞ্জের আগুয়ান কিপার তুষারের মাথার ওপর দিয়ে ঠা-া মাথায় গোল করেন রবিনহো। এর কিছু পরেই চোট পেয়ে আশররভের মাঠ ছাড়া বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায় রহমতগঞ্জের। শক্তি হারানো প্রতিপক্ষের রক্ষণে তাই হামলে পড়ে কিংস। লিড পায় ৪৪ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে রবিনহো ডালায় সাজিয়ে দেওয়ার মতো একটা লং বল ফেলেন ইব্রাহিমের উদ্দেশে। ডিফেন্সের ফাঁক গলে সেই বল ডান পায়ে রিসিভ করে তুষারকে কোনো সুযোগই দেননি ইব্রাহিম। তবে এগিয়ে থাকার স্বস্তি বিরতিতে সঙ্গী হয়নি কিংসের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঘানাইয়ান ফরোয়ার্ড আজহাকে বক্সে ফেলে দেন তারিক কাজী। স্পট কিক থেকে ২-২ করেন সানডে।
দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলই সময় নিয়েছে গুছিয়ে ওঠার। ৬৬ মিনিটে রবিনহোর ফ্রি-কিকে সোহেল রানার শট হেড করে ক্লিয়ার করেন রহমতগঞ্জের বদলি ডিফেন্ডার তারেক। তবে ৭৬ মিনিটে ঠিকই ডিফেন্সের ফাঁক গলে কিংসকে স্বস্তি এনে দেন বদলি লেফটব্যাক ইয়াছিন। রবিনহোর কর্নারে জোরালো হেডে গোল করেন তিনি। ৮৮ মিনিটে অবশ্য ম্যাচে ফেরার দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন সানডে। প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। বাঁ দিক দিয়ে ছুটছিলেন আজহা। বলটা সতীর্থের কাছে ঠেললেই ম্যাচটা জমে ওঠে। সেটা না করে নিজেই শট নেন সানডে, যা লক্ষ্যে থাকেনি।