গার্মেন্টসকর্মী বাবা-মাকে কাছে না পাওয়ায় কিশোরের আত্মহত্যা

গার্মেন্টসে চাকরি করেন মা-বাবা দুজনই। তাদের কিশোর বয়সী সন্তান থাকেন গ্রামে। ছুটি ছাড়া গ্রামে যাওয়া হয় না বা-মায়ের। ওই গার্মেন্টসকর্মী বাবা-মাকে কাছে পাওয়ায় সোহাগ হোসেন (১৬) নামের এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

বুধবার বিকেলে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলির কাদিপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সোহাগ হোসেন ওই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় হাবিবপুর দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের মা ও বাবা দুজনেই ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। গত ছয় মাস থেকে তারা ঢাকাতেই থাকেন। আর নিহত সোহেল তার ফুপুর কাছে থেকে লেখাপড়া করতেন।

স্থানীয়রা জানান, মা কাছে না থাকার কারণে তাকে কাছে পাবার জন্য সব সময় ব্যাকুল হয়ে থাকতেন সোহেল। সম্প্রতি তার বাবা-মাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসতে ঢাকায় যান তিনি। কিন্তু সেখান থেকে তার বাবা তার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ফিরলেও মা ঢাকাতেই থেকে যান।

গতকাল মঙ্গলবার তার বাবা সোহেলকে গ্রামের বাসায় রেখে পুনরায় ঢাকা চলে যান। এতে সোহেলের মধ্যে অভিমান তৈরি হয়। মা-বাবাকে কাছে না পেয়ে অভিমানে আজ বুধবার বিকেলে ঘরের বর্গার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল বাশার শামিম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে গার্মেন্টসে চাকরি করতে সোহেল নামের ওই কিশোরকে বাড়িতে দাদুর কাছে রেখে ঢাকায় চলে যান তারা মা-বাবা। গতকাল তার বাবাও তাকে রেখে ঢাকায় চলে যান। ছেলেটা একা একা দীর্ঘদিন থাকার কারণে একাকিত্ব অনুভব করছিলেন। ছেলেটি তার মাকে বিভিন্ন সময়ে ফোন করে বাড়িতে আসার জন্য বলতেন।

তিনি আরও জানান, তারপরেও বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্তে যা উঠে আসবে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।