ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর পূর্ব ইউরোপের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ওই অঞ্চলে কয়েকশ যুদ্ধবিমান ও জাহাজ মোতায়েন করেছে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)। বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জোটের মহাসচিব জিনস স্টলটেনবার্গ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ন্যাটো মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের মহাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর চরম আঘাত এসেছে। রাশিয়া তার সামরিক শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই অঞ্চলের ইতিহাস নতুন করে লেখার উদ্যোগ নিয়েছে এবং ইউক্রেনের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করেছে’।
এখনো ইউক্রেন ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি, কিন্তু পূর্ব ইউরোপের যেসব দেশ এই জোটের পূর্ণ সদস্যপদ পেয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন স্টলটেনবার্গ।
ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে রাশিয়াকে এককভাবে দায়ী করে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘এটি একটি ইচ্ছাকৃত ও ঠাণ্ডা মাথার আগ্রাসন। দীর্ঘদিন ধরে এই আগ্রাসনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল এবং বিনা উস্কানিতে ঘটা এই হামলার কারণে ইউক্রেনের অনেক নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারাবেন’।
পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে পোল্যান্ড ও ইউরোপের বাল্টিক অঞ্চলের ৪ সদস্যরাষ্ট্র রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার সমন্বয়ে নতুন একটি বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে ন্যাটো। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলে কয়েকশ যুদ্ধবিমান ও জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন জোটের মহাসচিব।
তবে, রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকাতে ইউক্রেনে সেনা পাঠাবে না ন্যাটো, পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন জোটের মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ।
ন্যাটো প্রধান বলেছে, ইউক্রেনের ভেতরে কোনো ন্যাটো সেনা নেই। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি যে, ইউক্রেনে ন্যাটো সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনাই আমাদের নেই।
তবে তিনি জানান, এরই মধ্যে ন্যাটো এলাকার পূর্বাংশে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং তা আরও বাড়ানো হবে।
এদিন স্টলটেনবার্গ অভিযোগ করেন, রাাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করে ইউরোপ মহাদেশের শান্তি নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করেছে। এটি নৃশংস যুদ্ধকর্ম। ইউক্রেনের সাহসী জনগণের জন্য আমাদের সমবেদনা।
ইউক্রেন পশ্চিমা প্রতিরক্ষা জোটের অংশীদার হলেও ন্যাটোর সদস্য নয়। তবে তারা দীর্ঘদিন থেকে পশ্চিমা এই সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। আর এ কারণেই রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে।