শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা ১০০ ফিটের রাস্তায় জনসভার ডাক দিয়েছিল নাগরিক ঐক্য ঢাকা মহানগর উত্তর। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার।
কিন্তু শুক্রবার সকালে মঞ্চ বানালে ভাটারা থানার পুলিশ গিয়ে তাতে বাধা দেয় ও মঞ্চ ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ করেন নাগরিক ঐক্যের নেতারা।
তারা বলেন, পরে বিকেলে সমাবেশ স্থলে মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ নেতারা উপস্থিত হলে আবারও হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ। এ সময় নেতারা একটি ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ পাহারায় তারা সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কোনো সভা সমাবেশ করার অনুমতি নেই। ভাটারা থানা এলাকার ১০০ ফিটে ঘটনাস্থলে আমরা গিয়েছিলাম, তবে সেখানে কোনো মঞ্চ দেখিনি।’
নাগরিক ঐক্যের জনসভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হামলা, মঞ্চ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া এবং নাগরিক ঐক্যের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যসচিব আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ‘নাগরিক ঐক্যের শান্তিপূর্ণ জনসভার ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা বর্বরতা ও ন্যক্কারজনক কাপুরুষতা। এই হামলা নিঃসন্দেহে পূর্বপরিকল্পিত। সভা-সমাবেশ ইত্যাদি সংবিধান স্বীকৃত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু আওয়ামী সরকার নিজেদের অস্তিত্বের প্রশ্নে এতটাই বেসামাল যে, তারা সংবিধান স্বীকৃত এই অধিকার মেনে নিতে চায় না।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নাগরিক ঐক্যের ডাকা জনসভায় পুলিশের হামলা, জনসভার মঞ্চ ভেঙে চুরমার করার ঘটনায় প্রমাণ হয় সর্ষে পরিমাণ মাটিও সরকারের পায়ের নিচে অবশিষ্ট নেই। ক্ষমতার মোহে এরা দেশকে গণতন্ত্রশূন্য করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিজেদের অঙ্গ সংগঠনগুলোকে বিবেকহীন ও মনুষ্যত্বহীন করে তুলেছে।’