রাতে ঘুম না হওয়া কিয়েভবাসী সকালে দেখেছেন লাশ

বৃহস্পতিবার রাত নানা আশঙ্কায় কেটেছে ইউক্রেনের কিয়েভের বাসিন্দাদের। চলছে কারফিউ। রাতভর দফায় দফায় ভেসে এসেছে বোমাবর্ষণের শব্দ। আজ শুক্রবারও শহরের কেন্দ্র থেকে বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। উত্তর কিয়েভের ওবোলনস্কি শহরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের মুখে রাস্তায় লোকজনকে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। খবর: এএফপি 

ওবোলনস্কি থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি ট্রাকের কাছে তারা দুটি মরদেহ দেখেছেন। সেগুলো রুশ সেনাদের বলে মনে হয়েছে। তবে এএফপির সাংবাদিকদের ওই ট্রাকের কাছাকাছি যেতে দেয়নি ইউক্রেনের সেনারা।

ইয়েভগেন নালুতে (৩৯) নামের এক বেসামরিক ব্যক্তি বলেন, দুটি সাঁজোয়া যান রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। পরিচয় পাওয়া যায় এমন কোনো চিহ্ন সেগুলোতে ছিল না। এর একটি আন্ডারপাসের নিচে লুকিয়ে ছিল। অপরটি রাস্তা ধরে কিছুটা এগিয়ে যায়। পরে বাড়িঘরের দিকে মোড় নেয়। এ সময় লোকজন পালিয়ে যাচ্ছিল।

আজ সকালে নিজের বাড়ির বারান্দা থেকে গুলির শব্দ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভিক্টর বেরবাশ (৫৮) নামের আরেক ব্যক্তি। রাস্তায় একটি সাঁজোয়া যান দেখেছেন তিনি। সেটি থেকে গুলি চালানো হচ্ছিল। সামরিক বাহিনীর আরও একটি যান চোখে পড়েছে ভিক্টরের। সেটিতে বিমানবিধ্বংসী মেশিনগান ছিল বলে মনে হয়েছে তার।

নিজের দেখা আরও কিছু ঘটনা এএফপিকে বলেছেন ভিক্টর। বলেন, সাধারণ এক বাসিন্দার গাড়ি একটি ট্যাংকের নিচে চাপা পড়ে। ওই গাড়ির চালক আদৌ বেঁচে আছেন কি না, জানেন না তিনি।

ভিক্টর বলেন, ‘এটা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেনি। এটা নিছক কোনো রসিকতা না। এর কোনো দরকার ছিল না। সেটি (ট্যাংক) গাড়িটির ওপর দিয়ে গেল। থামল, তারপর পেছনের দিকে এসে সেটিকে আবার পিষে দিয়ে চলে গেল।’

ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর গতকালই কিয়েভের উপকণ্ঠে পৌঁছে যায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। ওবোলনস্কির কাছেই গোস্তোমেল বিমানঘাঁটিতে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া। অবশ্য ওই হামলা প্রতিহত করার দাবি করে ইউক্রেন।

এদিকে ওবোলনস্কিতে রুশ সেনারা প্রবেশের পর তাদের প্রতিহত করতে বেসামরিক লোকজনকে আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এক পোস্টে মন্ত্রণালয় জানায়, রুশ সেনাদের গতিবিধি সরকারকে জানাতে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মলতোভ ককটেল তৈরি করে শত্রুদের প্রতিহত করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন পুতিন। এরপরই ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের প্রথম দিনটি সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ।