রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট: যেসব প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ইউক্রেনে হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। রুশ সৈন্যরা উত্তর, দক্ষিণ এবং পূর্ব দিক দিয়ে ইউক্রেনে ঢুকে পড়ে, বড় বড় শহর ও সেনা ঘাঁটিতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়। হামলার দ্বিতীয় দিনেই রুশ সেনারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ঢুকে পড়েছে।

শুক্রবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রধান একটি বিমানবন্দর এবং বিমানঘাঁটি দখলে নিয়ে নিয়েছে রাশিয়ান সেনারা। প্রায় ২০০ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে ইউক্রেনের দুই শতাধিক সৈন্যকে হত্যার পর হোসটোমেল নামের ওই বিমান ঘাঁটি দখল নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে রাশিয়ান সেনারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আন্তোনভ নামের আরেকটি বিমান ঘাঁটিও দখল করে নেয়।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করছে, তাদের সঙ্গে যুদ্ধের দুদিনেই রাশিয়ার ১,০০০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে।

এর কী প্রভাব পড়বে বিশ্বে তা নিয়ে মত দিয়েছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। ফিন্যানসিয়াল টাইমস এর প্রতিবেদন অবলম্বনে­–

এ যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ হবে?

ভ্লাদিমির পুতিন কী চান তা এখনো অস্পষ্ট। বিশ্লেষকরা এখনো অপেক্ষায় আছেন কী ঘটে তা দেখার জন্য। ইউক্রেনে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়ে মস্কোবান্ধব একটি সরকার প্রতিষ্ঠাই কি পুতিনের লক্ষ্য না তা আরো বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটাবে যাতে ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সীমানায় পরিবর্তন আসবে?

বারেনবার্গ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবীদ হগার শিমেইডিং বলেন, এই যুদ্ধ কতটা মারাত্মক হবে এ প্রশ্নে উত্তরে নিহিত রয়েছে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি ও অর্থ খাতে এর কী প্রভাব পড়বে।

অর্থনীতিবিদরা এও বিশ্বাস করেন যে ইউক্রেনের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর চলমান পরিস্থিতির প্রভাব কম হবে না। ব্লুবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এর অর্থনীতিবীদ টিম অ্যাশ চীনের ভূমিকাকে এক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

চীন ইতিমধ্যে রাশিয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছে। তারা রাশিয়াকে ইউেক্রনে সামরিক অভিযানের বিষয়ে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিংয়ের এ অবস্থান বৈশ্বিক প্রভাব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে যা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তাইওয়ানের সঙ্গে তাদের যে ক্রমবর্ধমান সংকট, কূটনৈতিক চলাচালিতে এর একটা পরিণতি ঘটতে পারে। হয় চীন এ পরিস্থিতিকে তাইওয়ান আক্রমণের সুযোগ হিসেবে নেবে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবে।

এই ভূরাজনৈতিক কম্পনের পর বাজার ব্যবস্থা কি ঠিক থাকবে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৃহস্পতিবার বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থবাজারে হঠাৎ পতন ঘটেছে। কিন্তু ফলাফল এরচেয়ে খারাপ হতে পারে। এর অর্থ এই যে পুতিনের পদক্ষেপে বাজার চমকে গেছে। তবে এখনই কোনো বড় ধরনের বিপর্যয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। মার্কেট হয়তো আরো পড়বে, করপোরেট আর পারিবারিক আয় হ্রাসের প্রভাবে, পাশাপাশি ভোগপণ্য বিক্রি ও ব্যবসায়িক হতাশাও দেখা দেবে যুদ্ধ বলয়ের ভেতরে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকস এর প্রধান অর্থনীতিবিদ নেইল শেয়ারিং বলেন, শেয়ারবাজার, বন্ডের পতনে মনে হচ্ছে যে যুদ্ধের প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি এটাও নির্দেশ করে যে, বাজার মনে করছে এ যুদ্ধে ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে না।  

বাজারেরর পতন থেকে কোনো দেশ বাদ নেই এবং অনেক উন্নয়নশীল দেশ এই হঠাৎ পতনের আঘাত পেয়েছে। আবেরদিন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এর কেভিন ডেলি দেখান যে ঘানা, তুরস্ক, মিসর এবং পাকিস্তানে এ যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে।

তিনি মনে করেন যে, অর্থনৈতিকভাবে নাজুক দেশ থেকে পুঁজি স্থিতিশীল দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  

সাধারণ ভোক্তাদের কী হবে?

প্যানথিওন ম্যাক্রোইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবীদ ইয়ান শেফার্ডসন বলেন, যুদ্ধের আশপাশের এলাকায় ভোক্তাদের প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পাবে। এর অর্থ হলো ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান বাজারের গতি কিছুটা কমে আসবে আগের তুলনায়।

বিনিয়োগ ও বাজার বিশ্লেষক সুজানে স্ট্রিটার বলেন, এটা নির্ভর করছে যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তার ওপর, তখন এর প্রভাব গুরুতরও হতে পারে।