ইউক্রেনের ৮০০ সামরিক স্থাপনা-সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ান সেনারা এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের ৮০০টিরও বেশি সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ বলেছেন, ইউক্রেনের ১৪টি সামরিক বিমানঘাঁটি, ১৯টি কমান্ড পোস্ট, ২৪টি এস-৩০০ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ৪৮টি রাডার স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনের আটটি নৌবাহিনীর বোটেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ওদিকে, রুশ বাহিনীর হামলার তৃতীয় দিনের শুরুতেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে লড়াই।

১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে ইউক্রেনের বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে। বহু বেসামরিক নাগরিককে অস্ত্র হাতে রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার সাধারণ নাগরিকদের হাতে হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে ইউক্রেন সরকার। পালিয়ে না গিয়ে দেশ রক্ষায় রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানানো হয়েছে পুরুষদের।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের ১৮ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র দেওয়া হয়। ।  

গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু হয়। এক দিন পরই রাজধানী কিয়েভের উত্তরাঞ্চলে ঢুকে পড়ে রুশ সেনারা।

এই পরিস্থিতিতে পালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য মার্কিন সাহায্যও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। জেলেনস্কি ইউক্রেন থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এর আগেও এক বক্তৃতায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন জেলেনস্কি। তখন বলেছিলেন, যখন আমাদের আক্রমণ করবেন, আপনি আমাদের মুখ দেখতে পাবেন, পিঠ নয়।

শুক্রবার এক ভিডিও পোস্টে কিয়েভ থেকে পালিয়ে যাওয়ার খবর অস্বীকার করে জেলেনস্কি বলেন, আমরা সবাই এখানে আছি।