ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। চার দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ধর্ষকদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ফাঁসি দেওয়া, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে হামলাকারীদের শনাক্ত ও আটক, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেসকল স্থানে বসবাস করেন সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন মেসে থাকা কয়েক হাজার ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পরে গোবরাসহ কয়েকটি অঞ্চলের বিভিন্ন মেসে থাকা ছাত্রীরা এ মুহূর্তে অনেকটা বন্দী জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তা ছাড়া ছাত্রীদের দেখে বখাটেসহ স্থানীয় নারীরা পর্যন্ত অশোভন আচরণ করছেন বলে অর্ধশতাধিক ছাত্রী অভিযোগ তুলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে আমরা বাইরে বের হওয়া দূরে থাক, বাসার বারান্দাতেও যেতে পারছি না। সব সময় বাসার চারপাশে স্থানীয় বখাটেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। এমনকি স্থানীয় নারীরাও আমাদের নিয়ে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করছেন। তাদের ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মানেই চরিত্রহীন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান জানিয়েছেন, ‘যেহেতু আমাদের হলগুলোতে পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নেই, তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থিত ছাত্রীদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ার পরে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’
চলমান আন্দোলন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, ‘গত কয়েক দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেসকল অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে রাস্তায় দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন এই ধরনের কাজ করার সাহস ধর্ষকেরা না পায় এ জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হবে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সতর্কভাবে চলাফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে র্যাব অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষণ মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে রাজধানীতে র্যাবের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- রাকিব মিয়া ওরফে ইমন (২২), পিয়াস ফকির (২৬), প্রদীপ বিশ্বাস (২৪), মো. নাহিদ রায়হান (২৪), মো. হেলাল (২৪) এবং তূর্য মোহন্ত (২৬)।
এর আগে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিয়াস সিকদার (২২), অন্তর (২১) ও জীবন (২০) নামে তিনজনকে আটক করেছিল।
নবীনবাগে দিনে-দুপুরে অস্ত্রের মহড়া: রাজধানীতে র্যাবের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের পরে গোপালগঞ্জ সদরের নবীনবাগে একদল দুর্বৃত্তদের অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা গেছে। এতে ভীতিগ্রস্ত হয়ে ওই এলাকায় বসবাসরত শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাহায্য চেয়ে পোস্ট করছেন।
বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি উল্লেখ করে স্থানীয় কমিশনার আল-আমীন বলেন, ‘আমার বাড়িতে হামলা হতে পারে এমন একটা গুজবের কারণে লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হয়েছিল। এতে শিক্ষার্থীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে নবীনবাগে গিয়েছিলাম। ওখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী (২২) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। এতে উপাচার্য, প্রক্টরসহ কমপক্ষে ২০ জনকে আহত হয়েছেন।