মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিকগুলোর অন্যতম ডাইক্লোরো-ডাইফেনাইল-ট্রাইক্লোরোইথেন (ডিডিটি)। অথচ ম্যালেরিয়া জীবাণু নিধনে ১৯৮৫ সালে বিদেশ থেকে আনা ৫০০ টন ডিডিটি চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে সরকারি মেডিকেল সাব ডিপোতে রক্ষিত আছে। চট্টগ্রামে থাকা এসব ডিটিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে ফ্রান্সে পাঠিয়ে অপসারণ করা হবে। গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে সরকারি মেডিকেল সাব ডিপোতে আয়োজিত অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রমের প্রয়োজন এসব ডিডিটি আমদানি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন গুদামে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকলেও এগুলো ধ্বংস করা হয়নি। বর্তমানে সরকারি একাধিক সংস্থা ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এসব ডিডিটি ফ্রান্সে তিন শিপমেন্টে স্থানান্তর করা হবে। আন্তর্জাতিক সব ধরনের আইন, নিয়মকানুন, পরিবেশ ও মানবদেহের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব ডিডিটি ফ্রান্সে পাঠিয়ে ধ্বংস/অপসারণ করা হবে।
ডিডিটি অপসারণ কার্যক্রম শুরু উপলক্ষে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বিবেচনায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বর্তমানে ডিডিটির উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চট্টগ্রামসহ প্রায় সারা দেশেই ডিডিটি শুঁটকি ও কৃষিকাজে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সঞ্জয় কুমার ভৌমিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন, সম্মানিত অতিথি ছিলেন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রবার্ট ডি সিম্পসন।
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল বলেন, এই রাসায়নিক মশা নিধন ছাড়া কোনো কাজে আসেনি। চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির বাড়বকুন্ডে ডিডিটি উৎপাদনের একটি কারখানা ছিল। দেশের আর কোথায় কোথায় এই ক্ষতিকর রাসায়নিক রয়েছে, তা অনুসন্ধান করা হয়েছিল। এখন শুধু এই ডিপোতেই মজুদ রয়েছে। এগুলো বিশেষভাবে প্যাকেজিং করা হবে। ইতিমধ্যে ১০ শ্রমিককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব ডিটিটি বিশেষ কন্টেইনারে করে জাহাজের মাধ্যমে ফ্রান্সের একটি কারখানায় পাঠানো হবে। যেহেতু এসব ক্ষতিকারক রাসায়নিক, তাই খুব সতর্কতার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি শেষ করতে আন্তর্জাতিক মান ও নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ১৯৮৫ সালে আমদানি হলেও ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে এই রাসায়নিক উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়। ২০০১ সালে স্টকহোম কনভেনশনে ডিডিটিসহ ক্ষতিকারক জৈব দূষণকারী কীটনাশক উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ বা সীমিতকরণ সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে বাংলাদেশেসহ ১৭১টি দেশ স্বাক্ষর করে। ২০০৭ সালের ১২ মার্চ তা কার্যকর করা হয়। গত ১৪ বছরেও বাংলাদেশ এই রাসায়নিক অপসারণ করতে পারেনি। অপসারণ কার্যক্রমে গ্রিন এনভায়রনমেন্টাল ফান্ডের ৩০ লাখ ডলার অনুদানে পেস্টিসাইড রিস্ক রিডাকশন ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রকল্প নিয়েছে এফএও। প্রকল্পের আওতায় এসব ডিটিটি ধ্বংসের জন্য ফ্রান্সের প্যারিসে পাঠানো হবে।