বান্দরবানের রুমার গ্যালেংগ্যা ইউনিয়নে চার ছেলেসহ কার্বারিকে (পাড়াপ্রধান) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে নিহত কার্বারির পুত্রবধূ বাদী হয়ে পাড়াটির ২২ বাসিন্দাকে আসামি করে রুমা থানায় মামলাটি করেন। এরপর আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আগেই আটক করা ৩১ জনের মধ্যে মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ থাকা ২২ জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গ্যালেংগ্যা ইউনিয়নের দুর্গম আবুপাড়ায় চার ছেলেসহ কার্বারি লকরুই ম্রোকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর সবার মরদেহ পাড়ার পাশের জঙ্গলের ঝর্ণার গভীর খাদে ফেলে দেয় হামলাকারীরা। এ খবর পেয়ে পরদিন শুক্রবার বিকেলে লাশ পাঁচটি উদ্ধার করে রুমা থানায় নিয়ে আসে পুলিশের একটি দল। কুসংস্কার ও জুম চাষের জমি নিয়ে বিরোধের ক্ষোভ থেকে পাড়াপ্রধান ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর পাড়ার লোকজন হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
রুমা থানার ওসি আবুল কাসেম চৌধুরী জানান, চার সন্তানসহ কার্বারি লকরুই ম্রো হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে তার ছেলে রেংঙি ম্রোর স্ত্রী কাইপয় ম্রো বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে আবুপাড়ার ২২ জন বাসিন্দাকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারভুক্ত এই ২২ আসামিকে শুক্রবার রাতেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল শনিবার সকালে বান্দরবানের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
ওসি আবুল কাসেম বলেন, ‘গ্রেপ্তার ২২ জনই কার্বারি লকরুই ম্রো হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
গ্যালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো সাংবাদিকদের বলেন, চার সন্তানসহ লকরুই ম্রোকে হত্যার পর পাড়াবাসীর কেউই পালাননি। শুক্রবার বিকেলে পাড়া থেকে পুলিশ ৩১ জনকে আটক করে। তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে ২২ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে।
এদিকে নিহত পাঁচজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল সকালে বান্দরবান জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।