কাজী হাবিবুল আউয়ালকে সিইসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অর্ধেক কাজ করেছে জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, যোগ্য প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়েছে। কিন্তু তাকে সমর্থন করতে হবে। তার হাত–পা বেঁধে দিলে তিনি কাজ করতে পারবেন না। নতুন সিইসি সৎ, সাহসী এবং তার মেরুদণ্ড শক্ত আছে। সরকার যদি তার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে তিনি কাজ করতে পারবেন না। সরকার যেন তার কাজে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।’
রবিবার সংবাদমাধ্যমকে ইসি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি খুশি হয়েছি যে আমার প্রস্তাবিত নাম থেকে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সরকারকেও ধন্যবাদ, তারা ভালো কাজ করেছে।’
গতকাল শনিবার কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খান এবং সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমানকে নিয়ে দেশের ১৩তম নির্বাচন কমিশন গঠন করে সরকার। আজ রোববার বিকেলে শপথ নেয় নতুন কমিশন।
এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সরকার একটি আইন পাস করে। সে অনুযায়ী একটি অনুসন্ধান কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটি সবার কাছে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নাম প্রস্তাবের আহ্বান জানায়। অনুসন্ধান কমিটির কাছে জমা পড়া নাম থেকে ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে যায়।
অনুসন্ধান কমিটি নাম আহ্বানের সময় জাফরুল্লাহ চৌধুরী আটজনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন বলে জানান।
নতুন কমিশনে বুদ্ধিজীবী বা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী এবং আরও একজন নারী থাকলে ভালো হতো বলে মত দেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বিরোধী দলগুলোকে নতুন কমিশনারদের সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীরাও তাদের সমর্থন দেবেন। পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের আন্দোলনও করে যেতে হবে।
মানুষকে কথা বলতে দেওয়ার, মিছিল করার অনুমতি ও রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, এতে দেশ সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পথে অগ্রসর হবে।