‘ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেড’ গড়ছে ইউক্রেন

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকা ইউক্রেনের দূতাবাসগুলোর প্রতি গতকাল এক আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে ‘ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেড’ গড়ে তুলতে ওই আহ্বান জানান তিনি। পুরো দুনিয়ার মানুষের কাছে তিনি এই আহ্বান রাখেন বলে জানিয়েছে এএফপি। রবিবারের ওই বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘দখলদার রাশিয়ার বিরুদ্ধে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউক্রেনের নেতৃত্ব বিদেশিদের স্বেচ্ছাসেবী হয়ে এই যুদ্ধে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিদেশিদের নিয়ে একটি পৃথক ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে, যার নাম ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেড। এই বাহিনী আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হবে।’

ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে রুশ বাহিনী। তবে নিজেদের রক্ষায় ইউক্রেনের মানুষ যে সাহস দেখিয়েছে সেটি প্রশংসার দাবিদার। ইউক্রেনীয়রা তাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা এবং রাশিয়ার আক্রমণ থেকে ইউরোপ এবং এর মূল্যবোধকে রক্ষার সাহস দেখিয়েছে। এটি কেবল ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ নয়, এটি ইউরোপ, ইউরোপীয় কাঠামো, গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা।’ দুনিয়ার সব নাগরিক, ইউক্রেন এবং শান্তি ও গণতন্ত্রের বন্ধুদের উদ্দেশে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন, ইউরোপ এবং বিশ্বের প্রতিরক্ষায় যোগদানে আগ্রহী যে কেউ এসে রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয়দের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করতে পারেন।’ বিবৃতিতে ইউক্রেনের লড়াইয়ে যোগদানে আগ্রহীদের নিজ নিজ দেশের ইউক্রেন দূতাবাসের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলেনস্কির এমন আহ্বানের পর ইউক্রেন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে বলেও মনে করা হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, জেলেনস্কির এই আহ্বানকে কাজে লাগিয়ে তার মিত্ররা ইউক্রেনে ব্যাপক মাত্রায় ভাড়াটে বা নিজেদের যোদ্ধা পাঠাতে পারে। সেক্ষেত্রে ন্যাটোভুক্ত সেনারাও যদি ইউক্রেনে লড়াই করে, তারা বিদেশি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেডের অংশ হবে।

ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ আরও অনেক দেশ ইউক্রেনে অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুসারে ইউক্রেনে কোনো অস্ত্রের চালান প্রবেশ করেছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। তবে গত শনিবার কৃষ্ণ সাগরে অস্ত্রের একটি চালান ধ্বংস করে দেয় রাশিয়া। ওই চালানটি কোন দেশ থেকে পাঠানো হয়েছিল তা স্পষ্ট করে জানায়নি রুশ কর্র্তৃপক্ষ।