বইমেলায় নাজিফা তুষিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিটিআরসিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা বাবু, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
এর আগে রবিবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করার ঘটনা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটে ওই ঘটনার ভিডিও সরানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়।
মঙ্গলবারের আদেশে বলা হয়, যদি ওই নারী মনে করে সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি তাহলে আইনি প্রতিকার চাইতে যথোপযুক্ত আদালতে যেতে পারবেন।
আরও বলা হয়, মোবাইল কোর্ট সাজা দেওয়ার সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বইমেলায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা রানী কর্মকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে অভিনেত্রীকে মাস্ক না পরায় জরিমানা করা হয়। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, অর্থদণ্ড দেওয়ার আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তর্ক করছিলেন তিনি। সেখানে উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেছিলেন, তাকে এভাবে ক্যামেরার সামনে কেন ‘হেনস্তা’ করা হচ্ছে?
এ নিয়ে দেশ রূপান্তরকে তুষি বলেন, একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করতে অতিথি হিসেবে আমাকে বইমেলায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। করোনা সচেতনতায় একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে শুরু থেকেই নানাভাবে সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছি। সুতরাং এ সময়ে মাস্ক পরার গুরুত্ব কতখানি তা আমাকে শিখিয়ে দেওয়ার দরকার নেই।
‘আমি বইমেলার মতো একটি পাবলিক প্ল্যাটফর্মে যাচ্ছি, আর মাস্ক পরব না এটা হতেই পারে না। তবে একটা সময় খাওয়ার জন্য মাস্কটি খুলি। আবার পরার আগেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট আমার কাছে এসে জানতে চান মাস্ক পরিনি কেন? আমিও তাকে সুন্দরমতো বিষয়টি পরিষ্কার করি। সারাক্ষণ মাস্ক পরে না থাকার কারণে দুঃখ প্রকাশ করি। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছিলাম, আমার যদি কোনো পানিশমেন্টও হয় সাইডে গিয়ে কথা বলেন। কিন্তু উনি আমার সঙ্গে সাইডে গিয়ে কথা বলছিলেন না; বিষয়টি বারবার ঘোরাচ্ছিলেন। অনেক মানুষের সামনে আমাকে বারবার হ্যারাস করছিলেন। তখন আমি শাউট করে বলছিলাম, আমাকে হ্যারাস কেন করছেন? তখনই আমি অর্থদণ্ড পরিশোধ করে দিয়েছি। সেই ঘটনা অনেকেই ক্যামেরায় ধারণ করেছিল বলে আমার মেজাজ আরও খারাপ হয়ে যায়।’
তুষি বলেন, ‘আমি তো এমন কোনো বড় অপরাধ করিনি যেটা দর্শককে দেখানোর জন্য দেশের একঝাঁক টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা আমার মুখের ওপর ধরে রাখতে হবে। ছোট্ট একটি ঘটনাকে বাড়িয়ে প্রচার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আমি সত্যি বিরক্ত।’