ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রথম দফা পূরণে আশ্বস্ত হলেও বাকি তিন দফা আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে তারা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে এসে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানানো হয়।
এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল-রাজ বলেন, আমাদের প্রথম দাবি ছিল ধর্ষকদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। যেহেতু ধর্ষকদের আটক করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে সেহেতু আমরা প্রথম দাবি পূরণে আশ্বস্ত হয়েছি। এখন ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে হামলাকারীদের বিচার, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হলে আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাবো। আমরা আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত দেখবো, এর মধ্যে এই তিন দফা পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বেলা ১২টায় 'দিয়েছিতো রক্ত আরও দেবো রক্ত, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়' স্লোগানে রক্তদান কর্মসূচি পালন করবেন। বিকেল ৪টায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ধর্ষণবিরোধী কনসার্ট করা হবে। এ ছাড়া সন্ধ্যা ৭টায় থাকবে আলোর মিছিল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব জানিয়েছেন, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে হামলাকারীদের বিষয়ে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের জন্য কথা বলা হচ্ছে। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাত সাড়ে ৯টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। এ পর্যন্ত ধর্ষণ মামলায় আটককৃত ছয় আসামিকে আদালতের মাধ্যমে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টানা ছয় দিন ধরে আন্দোলন করছেন।