ডিসি নয়, বিল পাসের দায়িত্ব এসপিকে দেওয়া উচিত: আইজিপি

জুনিয়র পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর পর আর্থিক অনুদান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিল পাসের দায়িত্ব ডিসিকে নয় এসপিকে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেছেন, জুনিয়র কোনো পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর পর পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান পেত পরিবার। তখন বিল পাস করত জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)। সরকার ২০২০ সালে আট লাখ করার পর সেই বিল পাস করেন জেলা প্রশাসকেরা। এতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যায় ৩৭৭ পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে মাত্র ৭৯ পরিবার টাকা পেয়েছে। বাকি সব পেন্ডিং।

‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ উপলক্ষে ২০২১ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও তাদের পরিবারবর্গকে স্বীকৃতি স্মারক প্রদান করেন আইজিপি।

বেলা ১১টায় ড. বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে রাজধানীর মিরপুর-১৪তে পুলিশ স্টাফ কলেজ (পিএসসি) কনভেনশন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন।

স্বরাষ্ট্রসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইজিপি বলেন, আমাদের জুনিয়র কোনো সদস্য যখন দায়িত্বরত অবস্থায় মারা যায় তখন পুরো পরিবার অথই সমুদ্রে নিক্ষিপ্ত হয়। জেলা প্রশাসকেরা অনেক ব্যস্ত থাকেন। এই দায়িত্ব যদি আবারও পুলিশ সুপারদের কাছে যায় তাহলে সমন্বয়হীনতা থাকবে না। নিহত পুলিশ সদস্যদের অসহায় পরিবারগুলোর অনেক উপকার হবে। আশা করছি, এই অনিশ্চয়তা কাটাতে উদ্যোগী হবে মন্ত্রণালয়।

আইজিপি বলেন, আমরা শান্তিকালীন সময়ে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছি সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তার জন্য। এ জন্য আত্মত্যাগ করছে পুলিশ সদস্যরা। তারা ডিউটিরত অবস্থায় প্রাণ হারায়। প্রতিবছর শত শত সহকর্মীকে হারাই কর্তব্যরত অবস্থায়। ৩৪৬ জন পুলিশ সদস্যকে হারিয়েছি গত বছর। এর মধ্যে করোনার দুই বছরে আমরা ১০৬ জন পুলিশ সদস্যকে হারিয়েছি। আজ ১৩৮ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করা হচ্ছে।

পুলিশ প্রধান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদেই পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের যাত্রা শুরু হয়। তিনি ৫ কোটি টাকার চেক দিয়ে এর যাত্রা শুরু করেছেন। ২০০৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরে ৫২ কোটি টাকা দিয়েছি। এই বছরও পৌনে দুই কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য। গত দুই বছরে সবার সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে পরিণত হয়েছে আমাদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল। যেখানে ১০০ থেকে ১৫০ কিডনি আক্রান্ত পুলিশ সদস্য ডায়ালাইসিস সুবিধা পাচ্ছেন। হাসপাতালে ২৯৬ জন স্টাফ দিয়েছে সরকার। আমরা এ বছরই ক্যাথ ল্যাব (কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন) সংযুক্ত করছি। ফলে আর বাইরে যাওয়া লাগবে না হার্টের রোগীদের। ইন হাউজ রিং পরানো যাবে। আগামী বছরই ক্যানসার ইউনিট চালু হবে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ক্যানসার হলে ৫, ১০ ও ১৫ লাখে কিছু হয় না। ঢাকা বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি সম্পন্ন হলে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চাপ কমবে। ২ লাখ ১২ হাজার পুলিশ সদস্যের চিকিৎসা সম্ভব হবে আমাদের হাসপাতালেই। আড়াই শ বেডের এই হাসপাতাল এখন ১১৫০ বেডের। আরও ৫০০ বেড বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

আইজিপি বলেন, পুলিশ বহুমুখী দায়িত্ব পালন করে। রাষ্ট্র ব্যবস্থার যে উন্নতি তাতে শিল্পায়ন নগরায়ণ হচ্ছে। আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকছে বছরের পর বছর কিন্তু কেউ কাউকে চেনে না। মানুষ একা হয়ে পড়ছে। সে কারণেই বর্তমানে এমন কোনো ক্ষেত্র নাই যেটা পুলিশের দায়িত্বের বাইরে। উন্নয়নের পেছনে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করি। শিল্প পুলিশ প্রতিষ্ঠার আগে এমন কোনো মাস ছিল যে আগুন লাগেনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন বলেন, পুলিশের কাজ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তা করতে না পারলে সোসাইটিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানি না। ছোটখাটো ভুলত্রুটির কারণে ঝাঁপিয়ে পড়ি। অথচ তাদের কর্মঘণ্টা, খাওয়া, পরিশ্রম বিবেচনা করি না। আমার মনে হয়, তাদেরকে সম্মান সহানুভূতির সঙ্গে মনে রাখা উচিত। পুলিশ বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭১ সালে প্রথম প্রতিরোধ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল পুলিশ। পিলখানা হত্যাযজ্ঞে প্রথম পুলিশ প্রতিরোধ গড়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা অপরাধ ঘটলেই কেবল অপরাধীর পেছনে ছুটব! আমার মনে হয় প্রো-অ্যাকটিভ কিছু করতে হবে। যাতে অপরাধী অপরাধ কাজ থেকে বিরত থাকে। যেমন- কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, লোনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।