দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চাকরি বিধিমালার বিতর্কিত ৫৪(২) ধারার কারণে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারছেন না। তাদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে কর্মপরিবেশ।
মঙ্গলবার দুদক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিইউএসএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিতর্কিত ৫৪(২) ধারা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তিন মাসের বেতন দিয়ে রাজস্ব খাতভুক্ত সরকারি কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার দুদক চাকরি বিধিমালার বিতর্কিত ৫৪(২) ধারা নিয়ে সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ ধারাটির কারণে ভয়-ডরহীনভাবে কাজ করতে পারছেন না দুদক কর্মকর্তারা। এতে ব্যাহত হচ্ছে কাজের পরিবেশ।
এতে বলা হয়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুদকের সুষ্ঠু অনুসন্ধান-তদন্তের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দুদক চাকরি বিধিমালার বিতর্কিত ৫৪(২) ধারার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পেন্ডিং আবেদন কমিশন কর্তৃক প্রত্যাহারের বিষয়ে দুদকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে কমিশন বরাবর কমিশনের সচিবের মাধ্যমে আবেদন করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি এবং কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনোরূপ আশ্বস্তও করা হয়নি। বরং সম্প্রতি এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে (যেমন- বিভাগীয় মামলা, শোকজ ইত্যাদি), যা প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কর্মপরিবেশ নষ্ট করছে।
৫৪(২) বিধি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, কোনোরূপ নোটিশ ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শুধু তিন মাসের বেতন দিয়ে রাজস্ব খাতভুক্ত সরকারি কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হলে ওই কর্মচারী দ্বারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কমিশনের কর্মচারীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বিধায় তাদের একজন সহকর্মীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার পরও কোনো ধরনের কঠোর অবস্থানে যায়নি।