পরিচয় দিতেই বশেমুরবিপ্রবির ২ ছাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হল বাস থেকে

বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে না, যার ফলে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বোধ করছেন না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

বুধবার শিক্ষার্থীদের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

তারা বলেন, এলাকাবাসী বারবার দুর্বৃত্তদের সঙ্গে আঁতাত করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে যাচ্ছে। যেকোনো তুচ্ছ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারপিট করা হচ্ছে। কিন্তু বারবার এসব ঘটনায় তাদের কোনো বিচার হয়নি। ফলে দুর্বৃত্তরা ধর্ষণ করার মতো অপরাধ করতে সাহস পায়। ভবিষ্যতেও এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকলে ধর্ষণসহ অন্য অপরাধগুলো বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

 

 

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে বাস থামিয়ে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। মাঝপথে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে এমন ব্যবহার কোনো সভ্যসমাজে হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রত্যহ ঘটছে। স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছে। তারা উঠতে-বসতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। মাঝপথে বাস থেকে দুই ছাত্রীকে নামিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই প্রমাণ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কতটা অবহেলিত, অসহায়। এভাবে চলতে থাকলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষার্থী গোপালগঞ্জ ছেড়ে চলে যাব।

শিক্ষার্থীশূন্য বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে না চাইলে অবিলম্বে এসব সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান তারা।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। এ পর্যন্ত ধর্ষণ মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত এখনো কাউকে আটক বা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।