ছাত্রলীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রথীন্দ্রনাথ বাপ্পিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তবে, অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানায়।
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের হল গেটের সামনে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ বাপ্পির।
আহত রথীন্দ্রনাথ বাপ্পি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
মারধরের বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রথীন্দ্রনাথ বাপ্পি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলনকে সাংগঠনিকভাবে না নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু একদল দুর্বৃত্ত ধর্ষণবিরোধী এই আন্দোলন হতে দিতে চায় না। এই আন্দোলন বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সুমন, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করেছে। বিষয়টি আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি।’
এর আগেও বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান সুমন ও আসিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে মারধর ও বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতা আমাদের হতাশ করেছে।’
অভিযোগের বিষয়ে আসিফ সিদ্দিকী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের বিচার চেয়ে শুরু থেকে আমরা সোচ্ছার। ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে ঝামেলাটি হয়েছে হলের সিটকে কেন্দ্র করে। তবে, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। দুপক্ষের হাতাহাতি হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। হলের সিটের বিষয় নিয়ে দুএকটি কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করেছে বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রলীগের কর্মীরা। চলমান ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীরা শুরু থেকেই আছে। এমনকি ঘোনাপাড়াতে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে থেকে আমাদের অনেক কর্মীই আহত হয়েছে। সুতরাং ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন বন্ধ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে সেটি মিথ্যা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।