সরকারি সুবিধাভোগী শ্রেণি দিয়ে ইসি হতে পারে না: মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকারি সুবিধাভোগী শ্রেণি দিয়ে কখনো নির্বাচন কমিশন হতে পারে না। নতুন নির্বাচন কমিশনের যে ইতিহাস তা ইতিমধ্যে আপনারা খবরের কাগজ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখেছেন। আমরা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। আমাদের একটাই দাবি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই।

বুধবার বিকেলে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে টাঙ্গাইল শহরের রেজিষ্ট্রিপাড়ায় জেলা বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন হবে, একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তা যদি না হয়, এই নির্বাচন কমিশনে যে কাউকে বসালে কোনো লাভ হবে না- সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশন কিছু করতে পারবে না। আমরা নিরপেক্ষ সরকার চাই, নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। তারেক রহমানকে আবার দেশে নিয়ে আসব।

কৌতুকের ঢংয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, এক ভদ্রলোক রাগে দুঃখে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন- ‘৪০ টাকা হালি ডিম কিনিয়া, ১৮০ টাকা লিটার তৈল দিয়ে ভাজিয়া, ১২৬০ টাকায় গ্যাসের চুলায় ৭০ টাকার চালের সঙ্গে ১২০ টাকার ডাল এক সঙ্গে মাখাইয়া খাইলাম। অতঃপর আকাশের দিয়ে তাকাইয়া আমরা স্যাটেলাইট বানাইলাম, স্যাটেলাইট তো দেখা যায় না। এই যে স্যাটেলাইট, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে কত হাজার কোটি টাকা ফ্রান্সে পাচার হয়ে গেল সেই খবর দেশবাসী জানে না।’

তিনি উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কাকে দমাতে এসেছেন। আমরা যে কথা বলব, এটা তো আপনাদের মনের কথা- আপনিও এর মধ্যে আছেন। আপনাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সকলের মনের কথা। আপনারা বলতে পারছেন না, কিন্তু আমরা বলতে পারছি। আপনি ভাবতে পারেন, রেশন পান, টাকাটা খুব কম লাগে, তা কিন্তু না। রেশন তো আর সবাইকে দেওয়া হয় না। রেশন তো শুধুমাত্র পুলিশ ভাইয়েরাই পান। আর কেউ পায় না। আমরা তো আপনাদের কথা বলছি, দেশের মানুষের কথা বলছি। আর আপনারা লাঠিসোঁটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে একটা কথা আপনাদের বলতে চাই, এই লাঠি-বন্দুক-কামান ওই লুটেরাদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন। যে লুটেরা আপনাদের ও দেশের মানুষকে লুটেপুটে খাচ্ছে।’

কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, ওবায়দুল হক নাছির, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হাসানুজ্জামিল শাহীন, যুগ্ম-আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল, কাজী শফিকুর রহমান লিটন, অমল ব্যানার্জী প্রমুখ।