কুমিল্লার বাজারগুলো থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যতেল সয়াবিন উধাও হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে সয়াবিন তেলের ডিলার এবং বাজারজাতকারী বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ খুচরা ব্যবসায়ীদের।
তারা বলেন, সচরাচর বাজারের অলিগলিতে বিচরণকারী ডিলার এবং কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দেখা মিলছে না।
এ অবস্থায় সয়াবিন তেলের সংকট দেখা গেছে কুমিল্লার পাইকারি বাজার ও খুচরা দোকানে।
বুধবার নগরীর রাজগঞ্জ, চকবাজার, রানীরবাজার, বাদশা মিয়ার বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার বাজার ঘুরে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট লক্ষ্য করা গেছে। এ সংকটে সরিষা ও রাইস ব্রান তেলের সংকট এবং দাম বেড়েছে।
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সয়াবিন প্রতি লিটারে ৩০-৪০ টাকা এবং সরিষার তেলে প্রতি লিটারে ৫০ টাকা দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বাজারের এ সংকট যাচাইয়ে কুমিল্লার বৃহৎ তিনটি ডিলারের গুদামে গিয়েও তেলের মজুত দেখা যায়নি।
বুধবার বিকেলে নগরীর শাসনগাছা এলাকায় রুপচাঁদা সয়াবিন তেলের ডিলার শংকর সাহা, তীর সয়াবিন তেলের ডিলার হিরন সাহা এবং বসুন্ধরা সয়াবিন তেলের ডিলারের গুদামে গিয়েও মজুত পাওয়া যায়নি।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে সয়াবিনসহ ভোজ্য তেলের দাম ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে জনসাধারণের সমালোচনার কমতি নেই।
তাদের অভিযোগ, আসছে রমজান এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটগুলো। মধ্যস্বত্বভোগী একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে এসব তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নগরীর বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কারসাজি হলে ওপর মহলে হতে পারে। কোম্পানি এবং ডিলারগুলো গত এক সপ্তাহে তাদের প্রতিনিধিদের বাজারে পাঠাচ্ছে না। খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের মোবাইলেও পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিলারদের গোডাউনে যাচ্ছেন এবং সেখান থেকেও হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন।
নগরীর রাজগঞ্জ বাজারের দুলাল স্টোরের মালিক তনয় সাহা বলেন, গত এক সপ্তাহ যাবৎ আমরা কোনো তেল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে খুঁজে পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে রুপচাঁদার ডিলার শংকর সাহার কাছে গেলাম। সেখানেও লিটারে ২০ টাকা বেশি দিয়ে কয়েক বোতল তেল পেলাম। চিন্তা করছি সামনের দিকে সংকট না কাটলে আর সয়াবিন তেল বিক্রি করব না।
একই বাজারের হাছান স্টোরের মালিক মো. হাসান বলেন, ওপর মহল থেকে বাজারে সংকট সৃষ্টি করা হয়। আর যত ঝামেলা পোহাতে হয় আমাদের। ন্যায্য মূল্যের চেয়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি। যত দিন সংকট থাকবে তত দিন আর তেল বিক্রি করব না।
নগরীর রানীরবাজারের ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন বলেন, ডিলার এবং বিক্রয় প্রতিনিধি কারো কাছেই তেল পাচ্ছি না। অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করার কথা বললেও তারা তেল দিচ্ছে না। তাই কাস্টমার চাইলেও সয়াবিন তেল দিতে পারছি না।
এ সময় রাজগঞ্জ বাজারে এমরান হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, দশ দোকান খুঁজে একটি দোকানে সয়াবিন তেল পেয়েছি। ৮৮০ টাকায় পাঁচ লিটার তেল কিনেছি। সরবরাহ নেই বলে সবাই বিক্রি থেকে বিরত থাকছেন। ব্যবসায়ীরা বলছে তেলের দাম আরো অনেক বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার কুমিল্লার সহকারী পরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট আছে বলে মনে হচ্ছে না। আমি নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। তবে একটি চক্র রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। আমরা মঙ্গলবার বাজার মনিটরিং করতে গিয়ে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছি।
তিনি বলেন, গুজব ছড়িয়ে যেন ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে।