নাসুম-লিটনে উড়ে গেল আফগানিস্তান

আফগানিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে হারালেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে নানা শঙ্কা ছিল। এই ফরম্যাটে আফগানদের শক্তি আর বাংলাদেশের দুর্বলতা বিবেচনায় শঙ্কাগুলো অমূলক ছিল না। কিন্তু প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দাপুটে পারফরম্যান্সে সব শঙ্কাই উড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা।

লিটন দাসের দারুণ ব্যাটিংয়ের পর নাসুম আহমেদের বোলিং তোপে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাত্তাই পায়নি আফগানরা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ৬১ রানের বড় জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

১৫৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৭.৪ ওভারে ৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

শনিবার দুই দলের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে একই ভেন্যুতে। এর আগে চট্টগ্রামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ এ জিতেছে স্বাগতিকেরা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান নাসুমের তোপে পড়ে। ৪.৩ ওভারে দলীয় ২০ রানেই ৪ উইকেট হারায় দলটি। চারটি উইকেটই নেন নাসুম।

মাত্র ১০ রান খরচায় নিজের বোলিং কোটা শেষ করা নাসুমই হয়েছেন ম্যাচসেরা। গত বছর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও এক ম্যাচে ৪ ওভারে ১০ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছিলেন নাসুম।

এদিন পাঁচ উইকেট দখলেরও ভালো ‍সুযোগ ছিল তার। পঞ্চম ওভারে মোহাম্মদ নবির বিপক্ষে তার এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়াও দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বাঁচেন নবি।

টপ অর্ডারে ধসের পর আফগান অধিনায়ক নবি ও নাজিবুল্লাহ জাদরান জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু জুটিটি ৩৭ রানের বেশি হতে দেননি সাকিব আল হাসান। ১৯ বলে ১৬ রান করা নবিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তিনি। এতে দারুণ একটা মাইলফলকও গড়েন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। সাদা বলে নবি সাকিবের ৪০০তম শিকার।

পরে নাজিবুল্লাহ জাদরানকেও ফেরান সাকিব। ফলে ৬২ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয় আফগানরা। জাদরান ২৬ বলে ২৭ রান করেন।

১৮ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়ে নিজের বোলিং কোটা শেষ করেন সাকিব। শুধু সাদা বলে যার উইকেট সংখ্যা এখন ৪০১টি।

নাসুমের পর সাকিবের তোপে ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে যায় আফগানিস্তানের। পরে আর ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই পায়নি তারা। পেসার শরিফুল ইসলামের তিন শিকারে গুটিয়ে যায় একশারও আগে।

শরিফুল ৩.৪ ওভারে ২৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন। মোস্তাফিজের শিকার একটি।

এর আগে লিটন দাস টি-টোয়েন্টিতে নিজের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন। সাকিবের সঙ্গে ২২, মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৩৩ ও আফিফ হোসেনের সঙ্গে উপহার দেন ৪৬ রানের জুটি।

৪৪ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৬০ রান করেন লিটন। আফিফ ২৪ বলে ২৫ ও অভিষিক্ত মুনিম শাহরিয়ার ১৮ বলে ১৭ রান করেন। সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রানের পুঁজি পায় টাইগাররা।