এফডিসির ন্যক্কারজনক ঘটনায় পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সর্বশেষ বুধবার হাই কোর্টের আদেশে জায়েদ খান তার সাধারণ সম্পাদকের পদ ফিরে পান। জায়েদ খানের পক্ষে রায় আসার পর জায়েদ খান এফডিসিতে গেলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সন্ধ্যায় জায়েদ খান ও নিপুণ এফডিসিতে যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এসব ঘটনায় সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এফডিসিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কালকে আমার মনে হয়েছিল, কেন আসলাম এখানে? পদত্যাগ করার চিন্তা করছিলাম। কারণ আমার এগুলো ভালো লাগে না।’

এদিকে শিল্পী সমিতির কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকায় বুধবার সন্ধ্যায় প্রায় ঘণ্টাখানেক বাইরে অবস্থান নেন জায়েদ খান; সেই তালার চাবি ছিল নিপুণ প্যানেলের সদস্যদের কাছে। তালা খোলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে ইলিয়াস কাঞ্চনের দূতিয়ালিতে রাত ৮টার পর কার্যালয়ে ঢুকে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেন জায়েদ খান। নিজের প্যানেলের সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘এটা কোন ধরনের কথাবার্তা। একটা মানুষ যদি শিল্পী সমিতিতে বসে তাহলে তিনি কি সমিতি নিয়া চলে যাবে? ...চাবি নিয়ে যাচ্ছে। আমি ফোন করতেছি, চাবি দাও, খুলে দাও। ...এই যে বিষয়গুলো আমার ভালো লাগে না।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘ট্র্যাপ’ নামে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলছিল এফডিসিতে; সিনেমার নির্মাতা-শিল্পীদের শুভ কামনা জানাতে গিয়েছিলেন কাঞ্চন। এ সময় তার পাশে জায়েদ খানকেও দেখা গেছে। ইলিয়াস কাঞ্চনের ভাষ্যে, ‘সবকিছুরই তো সমাধান আছে। ভালোবাসা দিয়ে অনেক কিছু জয় করা যায়।’

এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে নিয়ে কাজ করাকে চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং তো হয়েই গেছে।’ হাই কোর্টের রায়ের সার্টিফায়েড কপি দেখিয়ে জায়েদ খান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারবেন বলেও জানান তিনি। ডিপজলসহ আরও কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধি শিগগিরই শপথ নেবেন।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল গত ২৮ জানুয়ারি, পরদিন ঘোষিত ফলে সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চনকে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের সময়ই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ করেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চনের প্যানেলের প্রার্থী নিপুণ। তাতে সাড়া না পেয়ে তিনি আপিল করেন। জায়েদের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার ‘প্রমাণ পাওয়ার’ কথা জানিয়ে আপিল বোর্ড তার প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা করে। এরপর শপথ নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেন নিপুণ। আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জায়েদ খান যান আদালতে। তাতে আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয় হাই কোর্ট, রুলও জারি করা হয়। সেই রুলের উপর শুনানি শেষে হাই কোর্ট বুধবার জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে রায় দেয়।