মারিওপোল শহর অবরোধ করে বিদ্যুৎ-পানি বন্ধ করে দিল রুশ সেনারা

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মারিওপোল শহর অবরোধ করে বোমা হামলা চলাচ্ছে রুশ সেনারা। পাশাপাশি শহরটিতে বিদ্যুৎ, পানি এবং খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। এছাড়া পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনর আরও বহু শহরে চলছে রুশ হামলা।

দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ শহরে বৃহস্পতিবার রুশ বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন ৩৩ জন। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ১২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত চেরনিহিভ শহরে উত্তর দিক থেকে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে রুশ সেনারা।

মারিওপোল শহরের মেয়র ভাদিম বয়চেঙ্কো বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মারিওপোল অবরুদ্ধ করে রেখেছে রুশ সেনারা। অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি, খাবার সরবরাহ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তারা।

তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শহরটি অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি অব্যাহত ভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের হাতে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লেনিনগ্রাদ অবরোধের কথা উল্লেখ করে ভাদিম বয়চেঙ্কো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘লেনিনগ্রাদের মতো করে এখানে তারা অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে’।

নাৎসিদের হাতে রুশ শহর লেনিনগ্রাদ অবরোধের কারণে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। মারিওপোল শহরের মেয়র আরও বলেন, ‘(বিচ্ছিন্ন করার পর) তারা আমাদের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ মেরামত করতে বাধা দিচ্ছে। রুশ সৈন্যরা আমাদের রেল সংযোগও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যেন আমরা আমাদের নারী, শিশু এবং বয়স্ক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে না পারি’।

মারিওপোলের সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, রাশিয়া ক্রমাগত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে গোলাবর্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবা সরবরাহে এবং লোকজনকে সরিয়ে নিতে বাধা দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও ফোন সংযোগ অনেকাংশে বিচ্ছিন্ন। আহতদের কোথায় নিয়ে যেতে হবে সেটি চিকিৎসকদের পক্ষে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট খাদ্য এবং পানির সংকটের মুখে পড়েছে। সিটি কাউন্সিল আরও জানিয়েছে, জাতি হিসেবে আমাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। এটি ইউক্রেনের মানুষের বিরুদ্ধে গণহত্যা।

চার লাখেরও বেশি বাসিন্দার শহর মারিওপোল দখল করা রুশ বাহিনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি আজভ সাগরে ইউক্রেনের কৌশলগত বন্দর এবং ডনবাস অঞ্চলে রুশ-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর কাছে অবস্থিত।