ইউক্রেনে আটকে পড়া বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওমর ফারুক তুহিনের মা খায়রুন্নেসা বলেছেন, আমার ছেলে এখন নিরাপদে ও ভালো আছে।
শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
বুধবার ইউক্রেনের একটি বন্দরে জাহাজটিতে হামলা হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই জাহাজ থেকে বাংলাদেশি নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় রকেট হামলায় জাহাজের ব্রিজ ধ্বংস হয়ে যায়, মৃত্যু হয় থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমানের।
শুক্রবার সকালে ছেলের কাছ থেকে পাওয়া একটি ভয়েস মেসেজের কথা উল্লেখ করে খায়রুন্নেসা জানান, তার ছেলেসহ জাহাজের সব নাবিককে এখন একটি নিরাপদ বাঙ্কারে রাখা হয়েছে এবং তারা সবাই সেখানে ভালো আছে।
তিনি বলেন, জাহাজটি অলভিয়ার ইউক্রেনীয় বন্দরের অভ্যন্তরীণ চ্যানেলে আটকা পড়ার পর থেকে তিনি ছেলের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলেছেন। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জাহাজের নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ায় গত ২ দিন ধরে কথা বলতে পারেননি।
তিনি জানান, গত ২ দিন তার ছেলে শুধু ভয়েস মেসেজ পাঠাতে পেরেছে এবং শেষ মেসেজটি ছিল শুক্রবার সকাল ৯টায়।
তবে জাহাজের নাবিকরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনো উদ্বিগ্ন মোহাম্মদ ওমর ফারুক তুহিনের মা।
এ ছাড়া বাংলাদেশের এমভি 'বাংলার সমৃদ্ধি' জাহাজের অতিরিক্ত ক্যাপ্টেন মনসুরুল আমিন খান (৩৮) তার পরিবারকে জানান, 'আগের চেয়ে স্বস্তিতে আছি। অনেকটা নিরাপদবোধ করছি। বাঙ্কারে প্রবেশ করেছি। তোরা চিন্তা করিস না।'
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তার ছোটবোন তালা সরকারি কলেজ শিক্ষক সাবিনা খান মৈত্রীর সঙ্গে তিনি এসব বলেন।
আটকে পড়া নাবিকদের সরিয়ে নিতে কাজ করছে বিএমএমওএ।
বিএমএমওএ'র সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'ইউক্রেনে অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের একটি দল প্রথমে নাবিকদের সরিয়ে নেয়ার জন্য সাহায্যের প্রস্তাব দেয় এবং বিএমএমওএ সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে।'
শাখাওয়াত জানান, বিএমএমওএ নেতারা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের সরিয়ে নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি নিয়ে এবং সবগুলো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ নাবিকদের উদ্ধার করা হয়। নিহত নাবিকের মরদেহসহ অন্যান্য নাবিকদের তীরে একটি বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়। নাবিকদের নিরাপদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।