অন্ধকারে ডুবছে ইউক্রেন

ইউক্রেনে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী আক্রমণের আগেও স্যাটেলাইট ইমেজে রাতের কিয়েভ, খারকিভ, রিভেনসহ অন্য শহরগুলো ছিল আলো ঝলমলে। কিন্তু যতই নতুন নতুন এলাকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে ততই অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। সিএনএন সম্প্রতি একাধিক বেসরকারি স্যাটেলাইট কোম্পানির প্রকাশিত ছবি প্রকাশ করেছে। ওই ছবিতে ইউক্রেনের শহরাঞ্চলগুলোকে রাতের বেলায় চেনাই যাচ্ছে না। ইউরোপের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অবস্থিত ইউক্রেনে। একাধিক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে দেশটিতে বিদ্যুৎ সংকট প্রায় ছিল না বললেই চলে। কিন্তু রুশ বাহিনীর হাতে দুটি পরমাণু কেন্দ্র চলে যাওয়ার পর অনেক এলাকাতেই দীর্ঘ বৈদ্যুতিক বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। এই বিভ্রাটের কারণ রাশিয়ার যুদ্ধকৌশল।

ব্যতিক্রম ইউক্রেনের লাভিভ শহর। শহরের প্রশাসন নিরাপত্তাজনিত কারণেই রাতের বেলা বাতির ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। রাতের বেলা রুশ বিমান থেকে আলোর উৎস টার্গেট করে হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে বাতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির স্যাটেলাইট ছবি পরীক্ষা করলে দেখা যায়, কিয়েভের পশ্চিম ও উত্তরাংশে আলো থাকলেও বাকি অংশ অন্ধকারে আচ্ছন্ন। ওই আলোর উৎস হতে পারে রাশিয়ার ৪০ মাইল দীর্ঘ সামরিক বহর। বহরটি ধীরে হলেও কিয়েভের দিকে আগ্রসর হচ্ছে। যতই বহরটি কাছাকাছি আসছে, ততই কিয়েভে হামলার মাত্রা বাড়ছে। মস্কো প্রশাসন কিয়েভ থেকে সাধারণ বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমন আহ্বানে কিয়েভও সাড়া দিয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতেই কিয়েভে রুশ সেনারা বড় অভিযান চালাতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে বাতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিডলবুরি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক জেফরি লুইস সিএনএনকে বলেন, ‘রুশরা বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে, এটা ভাবলেই মনে হচ্ছে কোনো পাগলাটে সিদ্ধান্ত। এই ছবি (স্যাটেলাইট ইমেজ) দেখলে বোঝা যাচ্ছে রুশ বাহিনীর আলোর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ঘাটতি রয়েছে।’ তবে একদল বিশ্লেষক অবশ্য মনে করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ডামি সমরাস্ত্র বসিয়ে শত্রুপক্ষকে ধোঁকা দিতে ওস্তাদ রাশিয়া। স্যাটেলাইট ছবিতে কিয়েভের পাশে যে আলোর সারি দেখা যাচ্ছে তা ডামিও হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনী ধরা খেয়েছিল এমন ডামিতে।