পিআইও এবং বিএডিসির আলাদা ঠিকাদার নিয়োগ

দুই দপ্তরের দ্বন্দ্ব সেতু নির্মাণ বন্ধ

পীরগঞ্জে এক সেতু নির্মাণে দুই দপ্তর ও দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রশি টানাটানি শুরু হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এক দপ্তর উদ্বোধন করে কাজ শুরু করার কয়েক দিন পর আরেক দপ্তর গভীর রাতে যন্ত্রপাতি নিয়ে হাজির হলে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রানী রায় বলেন, ব্রিজ নির্মাণের কাজটি আপাতত বন্ধ করে দিয়েছি। পরে অফিশিয়ালি সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাব।

এর আগে গত সোমবার উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের হাসানপুর জুম্মাপাড়ায় ওই সেতুর নির্মাণ নিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-সেচের (বিএডিসি) উপসহকারী প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে এসে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ করে কাজটি নিজেরা করতে চান।

পিআইও অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পিআইও উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের হাসানপুর জুম্মাপাড়ার ডোমজানা খালের ওপর কলি ফকিরের ঘাটে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দে একটি ব্রিজ নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে। কিন্তু সংযোগ রাস্তা না থাকায় ওই বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত যায়। পরে পিআইও সংযোগ রাস্তাটি নির্মাণ করে পুনরায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দে ব্রিজটির কাজ পায় ‘মো. নওরোজ হোসেন’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি ওই প্রকল্পের পরিচালক আতিকুল ইসলাম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই স্থানে ১৫ মিটার ব্রিজ নির্মাণকাজের উদ্বোধনও করেন। পরে এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সাইনবোর্ড টানিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করে।

অপরদিকে, বিএডিসিও একই স্থানে ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দে ২২ মিটার দৈর্ঘের ব্রিজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার দিলে কাজটি পায় ‘মেসার্স পিয়াস কনস্ট্রাকশন’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিএডিসির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গত রবিবার গভীর রাতে মাটি খনন যন্ত্র (এস্কেভেটর) নিয়ে নির্মাণস্থলে হাজির হলে দুই দপ্তর পিআইও এবং বিএডিসির মধ্যে শুরু হয় রশি টানাটানি।

এ ব্যাপারে খালপাড়ের বাসিন্দা বাবুল বাশার (৫৫), আবুল কাশেম (৬০), সাহারা খাতুন (৩৫) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পিআইও ৩-৪ বছর থাকি ব্রিজ করার জন্য চেষ্টা করছিল। হামরা ব্রিজ চাই।’

স্থানীয় রাজনীতিক মোর্শেদ বলেন, পিআইও পাইলিং করে ব্রিজ করবে। পাইলিং টেকসই হয়। সেটিই করা হোক।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের পিআইও মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৬ সালে মিঠিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম ফারুক আহমেদ, আওয়ামী লীগের নেতারা ও স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে এখানে সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এখন কাজ চলার সময় গত রবিবার রাত ৩টার দিকে ওই স্থানে বিএডিসির ঠিকাদার এস্কেভেটর নিয়ে হাজির!

বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী রুবেল মিয়া বলেন, আমাদের টেন্ডারে কাজটি পেয়েছে ‘মেসার্স পিয়াস কনস্ট্রাকশন।’ স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলে আমরা সাংসদের কাছে গিয়ে সমঝোতা করে নেব।