ইউক্রেনে দশ দিন ধরে চলা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যা ঘটেছে

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন আজ শনিবার দশম দিনে গড়িয়েছে। যুদ্ধে কতজন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে, তা পরিষ্কার নয়, কিন্তু জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর প্রায় ১২ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আরও কয়েক লাখ মানুষ এখন আশ্রয়ের সন্ধান করছেন।

রাশিয়ার দখলে যাওয়া ইউক্রেনের প্রথম বড় শহর হচ্ছে খারসেন। এছাড়া আরও ছোট ৪টি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাশিয়া। আর স্বাধীনতা ঘোষণাকারী দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক থেকেও ইউক্রেনের সেনাদের হটিয়ে দিয়েছে রাশিয়া।

রাজধানী কিয়েভ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ লক্ষ্য করে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে। কিয়েভের দিকে এগিয়ে আসা বিশাল একটি রাশিয়ান সেনা বহর পথে থেমে রয়েছে। সেনা বহরটি এখন কিয়েভ থেকে ১৫ মাইল দূরে রয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী মারিওপোলে অবরুদ্ধ করে রেখেছে রাশিয়ার সৈন্যরা এবং আরেকটি বন্দর নগরী ওডেসার দিকে এগোচ্ছে। রাশিয়া এই দুইটি শহর দখল করতে পারলে ইউক্রেন সমুদ্র যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

শুক্রবার কয়েকঘণ্টা ধরে গোলাবর্ষণের পর জেপোরেঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে রাশিয়া। এটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিশ্ব নেতারা বলছেন, এই হামলা বিশ্বে একটি বড় বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে অকার্যকর চেরনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্র এর আগে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রাশিয়া। এখানেই ১৯৮৬ সালে পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

ইউক্রেনের আকাশে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করতে নেটো রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদামির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘এখানে যত মানুষ মারা যাবে, তাদের জন্য আপনারাই দায়ী হবেন’।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক লক্ষ্য করে সম্পদ জব্দের একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর ফলে দেশটির বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ভ্রমণ বাধার মুখে পড়েছে।

সেই ধারা মেনেই এ বার বিশ্বের উন্নত সাতটি দেশের গোষ্ঠী জি-৭ একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকা, কানাডা, জাপান, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইটালিকে নিয়ে গঠিত জি-৭-এর তরফে শুক্রবার এই ঘোষণা করে জানানো হয়েছে, সময়ের সঙ্গে মস্কোর বিরুদ্ধে বিধিনিষেধের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে।

শুধু দেশ হিসেব রাশিয়া নয়, সে দেশের বৃহৎ উদ্যোগপতিদের জন্যও বাজার বন্ধ করার কথা জানিয়েছে জি-৭ দেশগুলি। তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার ব্যাঙ্কগুলির উপরও জারি হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা।

রাশিয়ায় যুদ্ধ সংবাদ প্রকাশে সেন্সরশীপ আরোপ করে একটি নতুন আইন জারি করায় বিবিসি-সহ একাধিক গণমাধ্যম সেদেশে কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

অ্যাপল, স্যামসাং, এয়ারবিএনবিসহ একাধিক কোম্পানি রাশিয়ায় ব্যবসা স্থগিত করেছে। সেই সঙ্গে রাশিয়ার বিমান চলাচল স্থগিত করেছে একাধিক দেশ।