প্রধানমন্ত্রীর বারবার আমিরাত সফর নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে: রিজভী

গত এক যুগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন বারবার আরব আমিরাত সফর করছেন তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, এ সফরের নেপথ্যে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে কি না, সাহস থাকলে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করুন।’ 

শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘দেশে চলছে এক নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। অপরদিকে সারা বিশ্বে বিরাজ করছে এক যুদ্ধাবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে ৫০ জনের এক বিশাল বহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় টাকা খরচ করে কি কারণে আরব আমিরাতে যাচ্ছেন এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বিশেষ করে আরব আমিরাতে শেখ হাসিনার ঘন ঘন সফরের রহস্য কি? আমরা আশা করি, সরকারের মন্ত্রীরা বিষয়টি জনগণের সামনে খোলাসা করবেন। গত এক যুগে শেখ হাসিনা কেন বারবার আরব আমিরাত সফর করছেন এর নেপথ্যে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে কিনা সেটিও সাহস থাকলে জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকার নিজেদের সিন্ডিকেটের হাতে বাজার লুটপাটের লাইসেন্স দিয়েছে। অন্যদিকে সরকারের অটো ভোটের মন্ত্রীরা দ্রব্যমূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মশকরা করছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কিছুই করার নেই। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলছেন, বর্তমান সরকারের ১৩ বছরে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বেড়েছ ‘।

রিজভী বলেন, ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে শুধুমাত্র আওয়ামী লোকদের, ‘এ কথাটি তথ্যমন্ত্রী এড়িয়ে গেছেন। লুটেরাদের খনিতে বসে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মুখ ঢেকে টিসিবির গাড়ির পেছনে ছোটার দৃশ্য তিনি দেখতে পান না, ক্ষুধার্ত মানুষের বোবা কান্নাও তিনি শুনতে পান না’।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান ইলিয়াসকে তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো হদিস মেলেনি। সে ডিবি পুলিশের কাছেই আছে, কিন্তু তারা সেটি স্বীকার করছে না। তাকে অবিলম্বে হাজির করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ২ মার্চ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালন করার সময় বিভিন্ন জেলায় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। বর্বর সরকার পেশিশক্তি দিয়ে জনগণকে দমন করতে চাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া প্রমুখ।